মার্কিন নীতির কোপ! রাস্তার কাজ আটকে যাওয়ায় মদ্যপান বাড়ছে? ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অদ্ভুত কারণে দায়ী করলেন বিজেপি নেতা

মহারাষ্ট্রের দুই গুরুত্বপূর্ণ শহরের সংযোগকারী আহমেদনগর-মানমাদ মহাসড়ক নির্মাণে দীর্ঘসূত্রিতা এবং স্থানীয় যুবসমাজ ও ঠিকাদারদের মধ্যে মদ্যপান বেড়ে যাওয়ার নেপথ্যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিকেই সরাসরি দায়ী করলেন এক বিজেপি নেতা। পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে আন্তর্জাতিক রাজনীতির সঙ্গে স্থানীয় পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক আচরণের এমন অদ্ভুত যোগসূত্র টেনে বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন তিনি।

আহমেদনগরের প্রাক্তন সাংসদ তথা প্রভাবশালী মন্ত্রী রাধাকৃষ্ণ ভিখে-পাতিলের পুত্র সুজয় ভিখে পাতিল हालেই এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। সড়ক প্রকল্পের নির্মাণকাজে প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব এবং আন্তর্জাতিক সংকটের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, মার্কিন রাষ্ট্রপতির খামখেয়ালি নীতি ও আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তের ফলেই বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে, যার জেরে সড়ক নির্মাণের অপরিহার্য উপাদান বিটুমিন বা আলকাতরার তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সুজয় ভিখে পাতিল জানান, রাস্তা তৈরির এই প্রাথমিক কাঁচামাল বা টার স্থানীয় বাজারে না পাওয়ার কারণে ঠিকাদারদের বাধ্য হয়ে দিল্লি থেকে বহু দূর গাড়ি চালিয়ে তা আনিয়ে নিতে হচ্ছে। এর ফলে সামগ্রিক পরিবহন খরচ প্রায় আড়াই গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সরকারি অনুমোদনের জটিলতাও বহুগুণ বেড়ে গেছে। এই কারিগরি ও অর্থনৈতিক সমস্যার কথা বলতে গিয়েই তিনি কিছুটা মেজাজ হারিয়ে বলেন যে, ট্রাম্পের এই ধরনের অনিশ্চিত কর্মকাণ্ডের কারণে মানুষের মধ্যে মানসিক চাপ এবং বিভ্রান্তি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তার জেরে এলাকার কিছু মানুষের মধ্যে মদ্যপানের প্রবণতাও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়েছে। যেহেতু বিটুমিন হলো অপরিশোধিত তেল শোধন প্রক্রিয়ারই একটি উপজাত পণ্য, তাই বিশ্ববাজারে তেলের ঘাটতি সরাসরি সড়ক নির্মাণসামগ্রীর জোগানে টান ফেলছে।

অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়েছে। ইরান সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, তাদের সামরিক নীতি এখন আর কেবল রক্ষণাত্মক অবস্থানে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তারা আক্রমণাত্মক রণকৌশল গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী কৌশলগত রূপান্তরের পথে হাঁটছে এবং উপযুক্ত সময়ে যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাও এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, তেহরানের এই অবস্থান পরিবর্তন বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের কৌশলগত চমক সৃষ্টি করতে পারে।