এয়ার ইন্ডিয়ায় বড়সড় বিপাক! পরপর ড্রাগ টেস্টে ফেল দুই পাইলট, মাঝ আকাশে আতঙ্ক!

ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের ভয়াবহ ঝাঁকুনি ও যান্ত্রিক ত্রুটির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আরও এক বড় সংকটে পড়ল টাটা গোষ্ঠীর মালিকানাধীন বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া। সূত্রে জানা গিয়েছে, সংস্থার আরও দুই পাইলট প্রাথমিক ড্রাগ টেস্টে উত্তীর্ণ হতে পারেননি। চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় থাকার কারণে ওই দুই পাইলটকে ইতিমধ্যেই বিমান চালানোর সমস্ত দায়িত্ব বা রোস্টার থেকে সাময়িক ভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কিছুদিন আগেই ফুকেত থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি এয়ারবাস এ-৩২০ নিও বিমান মাঝ আকাশে প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে আসে। প্রথমে এটিকে সাধারণ সামুদ্রিক বা আবহাওয়াজনিত টার্বুলেন্স বলে মনে করা হলেও, পরবর্তীতে সিস্টেম লগের ডেটা সামনে আসতেই আসল চিত্রটি প্রকাশ পায়। তদন্তে উঠে আসে যে, বিমানের তিনটি হাইড্রোলিক সিস্টেমে একসঙ্গে নজিরবিহীন গোলযোগ দেখা দিয়েছিল। এর ফলে টানা চার সেকেন্ডের জন্য বিমানের প্রধান কন্ট্রোল সারফেসগুলির ওপর থেকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন চালকরা।

তদন্তে জানা গিয়েছে, বিমানের এলিভেটর এবং এলিয়রন পাইলটের কোনো কমান্ড ছাড়াই নিজে থেকেই নড়াচড়া শুরু করেছিল। এলিভেটর বিমানের নাক ওপরে বা নিচে তুলতে এবং এলিয়রন ডানা ঝুঁকিয়ে বিমানকে বাঁক নিতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে হাইড্রোলিক ফেলিওরের কারণে স্পয়লারগুলিও সম্পূর্ণ বিকল হয়ে পড়ে, যা মূলত বিমানের লিফট কমিয়ে গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ওই ঘটনার পরই জানা গিয়েছিল যে, ফ্লাইটটির পাইলট-ইন-কমান্ড অবতরণের পর দুটি ইউরিন টেস্টে ফেল করেছিলেন এবং তাঁর শরীরে মাদকদ্রব্যের উপস্থিতি মিলেছিল।

এই ভয়াবহ ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসেছে এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ। নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরের অংশ হিসেবে সংস্থার সমস্ত পাইলটকে বাধ্যতামূলক ভাবে ড্রাগ টেস্ট করানোর নির্দেশ জারি করা হয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই তিনশোরও বেশি এয়ার ইন্ডিয়া পাইলট এই পরীক্ষার প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে গেছেন। সাধারণত চূড়ান্ত ড্রাগ টেস্টের রিপোর্ট হাতে আসতে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় লেগে থাকে। বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে আগেই স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়মের সঙ্গে সংগতি রেখেই ক্রু সদস্যদের নিয়মিত এই ধরনের ড্রাগ টেস্ট করানো হচ্ছে।