জাঁকজমক বাদ! রাজপ্রাসাদ ছেড়ে ঘরের লিভিংরুমে কার সঙ্গে চুপিচুপি সাতপাকে বাঁধা পড়লেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো?

সেলিব্রিটিদের বিবাহ মানেই সাধারণত চোখ ধাঁধানো জাঁকজমক, বিলাসবহুল প্রাসাদ, রাজকীয় রিসোর্ট কিংবা বিশ্বজুড়ে সাড়ম্বরে উদযাপনের এক বিশাল মহোৎসব। বিরাট কোহলি ও অনুষ্কা শর্মা থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে তাবড় তারকাদের এই ধারা বজায় রাখতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু তথাকথিত সেই প্রথাগত ধারণার সম্পূর্ণ বাইরে বেরিয়ে অত্যন্ত সাদামাঠা ও ঘরোয়া পরিবেশে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করলেন বর্তমান বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ও সফল ক্রীড়াব্যক্তিত্ব ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো এবং তাঁর দীর্ঘদিনের পার্টনার জর্জিনা রডরিগেজ। কোনো বিশাল ক্যাসেল বা মিডিয়ার ক্যামেরার ঝলকানি ছাড়াই একেবারে নিরিবিলিতে গত ১১ আগস্ট একটি অত্যন্ত গোপনীয় অনুষ্ঠানে তাঁরা একে অপরের সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়েছেন। নিজের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজে এই খুশির খবরটি অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন পর্তুগিজ ফুটবল তারকা রোনাল্ডো নিজেই।
সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা ওই বিশেষ ছবিতে দেখা গিয়েছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ও জর্জিনা রডরিগেজ একে অপরের হাত শক্ত করে ধরে আছেন এবং দুজনেই তাঁদের আঙুলে নতুন আংটি পরে রয়েছেন। ছবিটির ক্যাপশনে কোনো দীর্ঘ বার্তা না দিয়ে কেবল একটি ভালোবাসার লাল হৃদয়ের ইমোজি ব্যবহার করেছেন তারকা ফুটবলার। পরে একটি সাক্ষাৎকারে জর্জিনা রডরিগেজ তাঁদের এই অদ্ভুত ও সাধারণ বিয়ের সিদ্ধান্তের নেপথ্য কারণ অত্যন্ত সুন্দরভাবে খোলাসা করেছেন। তিনি জানান যে ভবিষ্যতে তাঁদের এই আনন্দের মুহূর্তটি পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সদস্য ও বন্ধুদের নিয়ে আরও বড় করে উদ্যাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। অতীতে রূপকথার মতো বড় কোনো ক্যাসেল, লম্বা ওয়েডিং ড্রেস, দামি গাড়ি কিংবা হিরে খচিত মুকুট পরে বিয়ের স্বপ্ন দেখার কথা স্বীকার করলেও জর্জিনা জানান যে এখন সেই সমস্ত বাহ্যিক মোহের প্রতি তাঁর আর কোনো আকর্ষণ নেই।
নিজের পার্টনার এবং আদরের সন্তানসন্ততিদের সঙ্গে একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তে এই বিশেষ দিনটি কাটাতে চাওয়ায় তিনি এই পথ বেছে নেন। জর্জিনার মতে, বিলাসবহুল ক্যাসেল, গাড়ি, দ্বীপ বা সম্পদ হয়তো তাঁদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং সবসময় হাতের কাছেই রয়েছে, কিন্তু ব্যস্ততার মাঝে পুরো পরিবারকে একসঙ্গে নিয়ে শান্তিতে সময় কাটানোর সুযোগ সবসময় আসে না। আরও অবাক করার বিষয় হলো, এই তারকা যুগল তাঁদের সারাজীবন একসঙ্গে কাটানোর মূল প্রতিজ্ঞাটি সেরেছেন তাঁদের নিজের বাড়ির লিভিংরুমের সাধারণ খাবার টেবিলে বসে। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটিই সত্যি। এই প্রসঙ্গে জর্জিনা জানান যে তাঁরা এমন একটি জায়গা বেছে নিতে চেয়েছিলেন যেখানে তাঁরা প্রতিদিন একসঙ্গে প্রাতরাশ, দুপুরের খাবার এবং রাতের খাবার খান—যেখানে তাঁদের বাস্তব জীবন কেটেছে। তাঁরা চান আগামী দিনে তাঁদের সন্তানরা যেন ভাবতে পারে যে এই টেবিলেই তাঁদের বাবা-মায়ের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে গুচির (Gucci) একটি শোরুমে প্রথমবার এই জুটির সাক্ষাৎ হয়েছিল, যেখানে জর্জিনা একজন সাধারণ সেলস অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই ছোট্ট পরিচয়ের পর দীর্ঘ পথ পেরিয়ে অবশেষে তাঁদের সেই বহুচর্চিত প্রেম পূর্ণতা পেল। রাজকীয় আয়োজন ছেড়ে অতি সাধারণ ও ঘরোয়া উপায়ে রোনাল্ডো ও জর্জিনার এই পরিণয় বিশ্বজুড়ে তাঁদের অগণিত ভক্তদের মুগ্ধ করেছে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় এই মুহূর্তেই চরম শোরগোল ফেলে দিয়েছে।