“নির্মল ঘোষকে ঘিরে বিক্ষোভ, চলল চড়-থাপ্পড়ের চেষ্টা”-কড়া নিরাপত্তায় বের করতে হলো প্রাক্তন বিধায়ককে

খড়দহ থানা চত্বরে চরম উত্তেজনার মধ্যেই হেনস্থার মুখে পড়লেন পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ। শুক্রবার খড়দহ থানা থেকে তাঁকে যখন আদালতের উদ্দেশ্যে বের করা হচ্ছিল, সেই সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ও ঢিল ছোঁড়ার অভিযোগ ওঠে। এমনকী তাঁকে চড় ও লাথি মারার চেষ্টাও করা হয় বলে খবর। বিক্ষুব্ধ জনতার রোষ থেকে বাঁচাতে পুলিশ তাঁর মাথায় হেলমেট পরিয়ে অত্যন্ত গোপনীয়তা ও কড়াকড়ির মধ্যে গাড়িতে তোলে।

উল্লেখ্য, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর দ্রুত দেহ সৎকারের অভিযোগে নতুন করে দায়ের হওয়া এফআইআরের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ওড়িশা থেকে নির্মল ঘোষকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার তাঁকে ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করার কথা ছিল। সেই উদ্দেশ্যেই তাঁকে থানা থেকে বের করার সময় পরিস্থিতি হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

থানার বাইরে বিক্ষোভ ও ধস্তাধস্তি

শুক্রবার খড়দহ থানা থেকে প্রাক্তন বিধায়ককে বের করার মুহূর্তেই বিক্ষুব্ধ জনতা ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ও ঢিল ছুড়তে শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। ভিড়ের মধ্য থেকে তাঁকে চড় ও লাথি মারারও চেষ্টা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামে পুলিশ বাহিনী। কোনও রকমে ভিড় ঠেলে পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় তাঁকে গাড়িতে তোলা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা থানা চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।

কীভাবে জালে ধরা পড়লেন নির্মল?

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নতুন করে এফআইআর দায়ের হওয়ার পরই গা ঢাকা দিয়েছিলেন নির্মল ঘোষ। পুলিশের চোখ এড়াতে তিনি ওড়িশায় পালিয়ে যান এবং সেখানে গিয়ে নতুন মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড ব্যবহার করতে শুরু করেন। পুরনো ফোনটি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে নতুন নম্বরের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করেই তাঁর গতিবিধির সন্ধান পায় পুলিশ। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে পুরী সংলগ্ন একটি হোটেলের ওপর অভিযান চালিয়ে তাঁকে পাকড়াও করা হয়।

দেহ দ্রুত সৎকার ঘিরে কি অভিযোগ?

২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি কর হাসপাতালে মর্মান্তিক ঘটনার পর নিহত তরুণী চিকিৎসকের দেহ সৎকার নিয়ে প্রথম থেকেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়, ময়নাতদন্তের পর তড়িঘড়ি কোনো মতামত না নিয়েই দেহ সৎকারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পাশাপাশি, সৎকার সংক্রান্ত কিছু নথিতে পরিবারের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিদের স্বাক্ষর থাকার অভিযোগও ওঠে। এই দ্রুত সৎকারের জেরে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের সুযোগ নষ্ট হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও বারবার তুলেছেন পরিবারে সদস্যরা।

নিহত চিকিৎসকের বাবার দায়ের করা এই নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে খড়দহ থানায় নির্মল ঘোষ ছাড়াও স্থানীয় পুরপ্রতিনিধি সোমনাথ দে এবং প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের নাম যুক্ত করা হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর মামলায় আগামী দিনে তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।