“সরকারি কর্মচারীরা ডিএ পেলেও বঞ্চিত অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষকরা! সুপ্রিম নির্দেশের পর সোজা হাইকোর্টে এবিটিএ”

সমস্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) মেটানোর নির্দেশিকা এবং সুপ্রিম কোর্টের তোড়জোড়ের মাঝেই নতুন করে আইনি জটিলতা তৈরি হলো। রোপা রুল ২০০৯ অনুযায়ী সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বা সরকার পোষিত (Grants-in-Aid) স্কুল এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের এখনও বকেয়া ডিএ দেওয়া হচ্ছে না—এই অভিযোগ তুলে শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করল অল বেঙ্গল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (ABTA)। বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

মামলাকারীদের মূল অভিযোগ: এবিটিএ-র আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষক সংগঠনের বক্তব্য, রাজ্যের মূল সরকারি কর্মচারীদের একাংশ ইতিমধ্যে মহার্ঘ ভাতার বকেয়া টাকা পেতে শুরু করেছেন এবং অর্থ দফতর সেই মর্মে বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে। কিন্তু সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলির শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা কেন এখনও বকেয়া ডিএ থেকে বঞ্চিত থাকবেন, সে বিষয়ে রাজ্য প্রশাসন সম্পূর্ণ নীরব। তাঁদের কী ভাগ্য নির্ধারিত হতে চলেছে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন গ্রান্টস-ইন-এড ভুক্ত কর্মীরা।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও বর্তমান পরিস্থিতি: এর আগে দেশের শীর্ষ আদালত সমস্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছিল। সেই কমিটি কীভাবে বকেয়া মেটানো সম্ভব, তার রূপরেখা সুপ্রিম কোর্টে জমা দিয়েছে এবং রাজ্য সরকারও এই বিষয়ে পদক্ষেপ শুরু করেছে। তবে অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থার কর্মীরা—যেমন অনুমোদিত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা বা কর্পোরেশনের কর্মীরা—সরাসরি সরকারি কোষাগার থেকে স্থায়ী বেতন না পাওয়ায় তাঁদের বকেয়া ডিএ প্রদান নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না।

যদিও প্রশাসনের অন্দরের খবর, সম্প্রতি অর্থ দফতরের সঙ্গে বিভিন্ন দপ্তরের বৈঠক হয়েছে এবং গ্রান্টস-ইন-এড কর্মচারীদের বকেয়া পরিশোধের একটি প্রাথমিক প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। তা সত্ত্বেও সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকার অভাবে আদালতের দ্বারস্থ হওয়াকেই শ্রেয় বলে মনে করেছে শিক্ষক সংগঠন। আগামী সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টেও এই মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে, যা এই আইনি লড়াইকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।