“প্রতিদিন ৪০ কিমি দূর থেকে এসে… জনগণনার কাজে শিক্ষকদের নিয়োগ নিয়ে রাজ্যকে কড়া প্রশ্ন হাইকোর্টের!”

শুরু হয়েছে ২০২৭ সালের জনগণনার (Census) প্রস্তুতি। কিন্তু এই সুমারির কাজে স্কুল শিক্ষকদের নিযুক্ত করার পদ্ধতি নিয়ে এবার বড়সড় প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট। স্কুল ছুটির পরে বা সপ্তাহের ছুটির দিনে শিক্ষকদের এই কাজে লাগানোর নির্দেশিকা দিলেও, আদালতের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছে রাজ্যকে।

জানা গিয়েছে, গত জুলাই মাসের শুরুতে কলকাতা পুরসভার জনগণনার বিভাগের পক্ষ থেকে জেলা স্কুল পরিদর্শককে একটি চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে সাফ জানানো হয়, জনগণনার কাজে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের যুক্ত করতে হবে এবং এর জন্য তাঁদের বিশেষ প্রশিক্ষণও নিতে হবে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, কলকাতার কোনো কোনো স্কুলের ৪২ জন শিক্ষকের মধ্যে ৩৫ জনেরও বেশি শিক্ষককে এই অ-শিক্ষামূলক কাজে যুক্ত করা হয়। যদিও কিছুদিন আগেই স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ দাবি করেছিলেন যে, প্রতিটি স্কুল থেকে সীমিত সংখ্যক শিক্ষককেই যাতে এই কাজে রাখা হয়, তা বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে এই নির্দেশিকার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের হলে আজ তার শুনানি ছিল। এদিনের শুনানিতে খোদ বিচারপতির মুখে উঠে আসে শিক্ষকদের যাতায়াত ও পঠনপাঠনের সমস্যার কথা। সুদূর গ্রামীণ বা বহুদূর থেকে প্রতিদিন ৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে এসে শিক্ষকতা করার পর এই ধরনের অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজে তাঁদের যুক্ত করার যৌক্তিকতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, সেনসাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য শিক্ষক নিয়োগের বর্তমান পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া কোনোভাবেই সঠিক ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

শিক্ষাকে অগ্রাধিকার না দিয়ে এভাবে পঠনপাঠন শিকেয় তুলে শিক্ষকদের সুমারির কাজে নামানো নিয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে উচ্চ আদালত। এই মামলার পরবর্তী পর্যায়ে আদালত কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে শিক্ষক মহল ও ওয়াকিবহাল মহলের।

Pratik Saha
  • Pratik Saha