“খেলার মাঝে বিকৃত উল্লাস! মদ্যপ আত্মীয়ের হাঁসুয়ার কোপে মর্মান্তিক মৃত্যু তিন শিশুর”

খেলাধুলার আনন্দ মুহূর্তে বদলে গেল রক্তস্নাত ট্র্যাজেডিতে। মদ্যপ অবস্থায় ঘরে ঢুকে আত্মীয়দের চার শিশুর উপর হাঁসুয়া নিয়ে নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। মুর্শিদাবাদের সুতি থানার রঘুনাথপুর এলাকার এই ভয়াবহ ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই শোকে স্তব্ধ গোটা এলাকা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত অভিযুক্তের নাম গোলাম সারওয়ার ওরফে বাদশা (২০)। বৃহস্পতিবার ঘটে যাওয়া এই বর্বরোচিত হামলায় প্রথমে মৃত্যু হয়েছিল চার বছরের এক শিশুর। শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারায় আরও দু’জন। বর্তমানে অপর এক নাবালিকা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে হাসপাতালে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় চার শিশু নিজেদের মতো খেলায় ব্যস্ত ছিল। তাদের মধ্যে দু’জন বাড়ির ভিতরে এবং দু’জন বাইরে ছিল। অভিযোগ, সেই সময় আচমকাই কুড়ি বছরের ওই যুবক হাতে ধারালো হাঁসুয়া নিয়ে তাদের উপর চড়াও হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই উপর্যুপরি কোপে রক্তাক্ত হয়ে লুটিয়ে পড়ে চারজনই। তাদের আর্তনাদ শুনে পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। দ্রুত উদ্ধার করে তাদের মহেসাইল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা চার বছরের শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাকি তিনজনকে গুরুতর জখম অবস্থায় জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় অনিষা খাতুন (১০) ও ইসরাত জাহান (১২)-এর। এর আগে মৃত্যু হয়েছিল মনিফা খাতুনের। অন্যদিকে, সাত বছরের নুসরাত জাহান এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সুতি থানার পুলিশ। অভিযুক্ত গোলাম সারওয়ারকে রাতেই আটক করা হয় এবং পরে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়। জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার সুপার সুরিন্দর সিং জানিয়েছেন, ধৃতকে আজ জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক পাঁচদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ঘটনার সময় অভিযুক্ত মদ্যপ অবস্থায় ছিল এবং সে মাদকাসক্ত। এছাড়া ধৃত যুবক মাঝেমধ্যে মানসিক সমস্যার ওষুধ খেত বলেও জানা গেছে। তবে ঠিক কী কারণে সে এই নৃশংস ঘটনা ঘলাল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। যে বাড়িতে কিছুক্ষণ আগেও শিশুদের কলকাকলি ও হাসিকান্নার পরিবেশ ছিল, সেখানে এখন নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Pratik Saha
  • Pratik Saha