মহাকাশে ফের বড় ধাক্কা বোয়িংয়ের! স্টারলাইনার ফিরিয়ে আনতে আরও ৩৬ কোটি ডলার ঢালছে নাসা

একাধিক কারিগরি ত্রুটি ও আইনি জটিলতায় জর্জরিত বোয়িংয়ের (Boeing) বহুল আলোচিত ‘স্টারলাইনার’ (Starliner) মহাকাশযানটিকে ফের চালু করতে মাঠে নামল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA)। মহাকাশযানটিকে পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত ও নিরাপদ করে তুলতে আরও বিপুল পরিমাণ অর্থ ও বিশেষ প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। নাসার মূল লক্ষ্য, সমস্ত সুরক্ষা মান নিশ্চিত করে আগামী ডিসেম্বরেই উন্নত সংস্করণের স্টারলাইনারকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) পাঠানো, তবে সেই মিশনে কোনো নভোচারী থাকবেন না।
ডিসেম্বরের মিশনে শুধু কার্গো, মানুষ উড়বে ২০২৮-এ
নাসার প্রশাসনিক কর্তা জারেড আইজ্যাকম্যান (Jared Isaacman) জানিয়েছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের নির্ধারিত পরীক্ষামূলক মিশনে স্টারলাইনারে কেবল কার্গো বা রসদ পাঠানো হবে। তবে নতুন করে মানুষের যাতায়াতের জন্য এই মহাকাশযানের বাণিজ্যিক উড়ান শুরু হতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। নভোচারীদের পুনরায় স্টারলাইনারের কেবিনে তোলার আগে মহাকাশযানটির নকশায় একাধিক পরিবর্তন (Redesign) এবং ব্যাপক নিরাপত্তা যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে বলে স্পষ্ট জানিয়েছে নাসা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের টেস্ট ফ্লাইটে মারাত্মক প্রযুক্তিগত ত্রুটির মুখে পড়েছিল স্টারলাইনার। এর জেরে নাসার দুই পরীক্ষামূলক নভোচারী বুচ উইলমোর (Butch Wilmore) এবং সুনিতা উইলিয়ামস (Suni Williams) দীর্ঘ প্রায় এক বছর আইএসএস-এ আটকে ছিলেন। পরবর্তীতে স্পেসএক্সের (SpaceX) সহায়তায় তাঁদের নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। এই ঘটনাকে নাসা ‘টাইপ এ মিশাপ’ (Type A mishap) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছিল। নাসার ম্যানেজার ডানা ওয়েইজেল (Dana Weigel) সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, স্টারলাইনারের সমস্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়েছে—এই বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো নভোচারীকে আর এই মহাকাশযানে তোলা হবে না।
নাসার বাড়তি বিনিয়োগ ও বিকল্প প্রস্তুতি
মহাকাশযানটির প্রয়োজনীয় আপগ্রেড এবং নতুন রকেট সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নাসার অতিরিক্ত প্রায় ৩৫৯ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩৬ কোটি মার্কিন ডলার খরচ হচ্ছে। স্টারলাইনারের ইঞ্জিনের ভাল্ভ ও সিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশে আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
মার্কিন মহাকাশচারীদের কক্ষপথে যাতায়াতের জন্য দুটি পৃথক ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা চালু রাখতে চায় নাসা। অতীতে স্পেস শাটল অবসর নেওয়ার পর বোয়িং ও স্পেসএক্স—উভয় সংস্থাকেই কোটি কোটি ডলার দিয়েছিল নাসা। এর মধ্যে স্পেসএক্স ২০২০ সালেই সফলভাবে তাদের মিশন শুরু করলেও বোয়িংয়ের স্টারলাইনার বারবার হোঁচট খাচ্ছে। তবে সমস্ত বাধা পেরিয়ে ২০২৮ সালের মধ্যে স্টারলাইনারকে ফের সচল করে তোলার লড়াইয়ে এখন সম্পূর্ণ জোর দিয়েছে নাসা।