যোগী রাজ্যে বুলডোজার যুগের বড় সাফল্য! বিগত ৯ বছরে উদ্ধার হলো ২ লক্ষ একর অবৈধ জমি!

উত্তর প্রদেশ জুড়ে সরকারি ও জনসাধারণের জমিতে অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে চলা দীর্ঘমেয়াদী অভিযান সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর ও নতুন তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। রাজ্য রাজস্ব বিভাগের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত নয় বছরের ব্যবধানে উত্তরপ্রদেশের মোট ৮৪,০০৫ হেক্টর অর্থাৎ প্রায় ২ লক্ষ ৮ হাজার একর বেদখল হওয়া জমি সফলভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। ভূমি মাফিয়াদের এই সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দিতে রাজ্যজুড়ে নেওয়া কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ১,৪১৩ জন কুখ্যাত অপরাধীকে চিহ্নিত করে ভূমি মাফিয়া হিসাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এই কঠোর ব্যবস্থার ফলস্বরূপ বর্তমানে ১৪৪ জন দুষ্কৃতী শ্রীঘরে বন্দি রয়েছে।
রাজ্য সরকারের পূর্বের ২০২২ সালের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ওই সময়ে ভূমি মাফিয়া বিরোধী অভিযানের আওতায় ২,৪৭১ জন দখলদারকে চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং ১৮৬ জন অপরাধী কারাগারে নজরে এসেছিল। বর্তমান পরিসংখ্যান বলছে, সময়ের সাথে সাথে এই আইনের প্রয়োগ আরও কঠোর হয়েছে। অবৈধভাবে জমি গ্রাস করার এই জাল ছিন্ন করতে রাজ্য, বিভাগ, জেলা এবং তহসিল স্তর পর্যন্ত একটি চতুর্স্তরীয় শক্তিশালী ‘অ্যান্টি-ল্যান্ড মাফিয়া টাস্ক ফোর্স’ গঠন করা হয়েছে। এই বিশেষ টাস্ক ফোর্স সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অভিযোগ গ্রহণ থেকে শুরু করে অবৈধ দখল চিহ্নিতকরণ, কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জমি পুনরুদ্ধার পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটির নিবিড় তদারকি করে চলেছে।
মাফিয়াদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে প্রশাসন কোনো ছাড় দিচ্ছে না। সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত ২৫,০৬৮টি রাজস্ব মামলা, ১,১৬৮টি দেওয়ানি মামলা এবং ৪,৭৫১টি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি কঠোরতম পদক্ষেপ হিসেবে গ্যাংস্টার আইনে ৭০ জন, গুন্ডা আইনে ২০৬ জন এবং কুখ্যাত তিন অপরাধীর বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইন বা এনএসএ প্রয়োগ করা হয়েছে। ভারতীয় দণ্ডবিধির অধীনে ১,৬২১টি মামলা এবং অন্যান্য আইনি ধারায় ১,৭৪৫ জনের বিরুদ্ধে আইনি খাঁড়া ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অবৈধ দখলের অভিযোগ নথিভুক্ত ও পর্যবেক্ষণের জন্য তৈরি বিশেষ পোর্টালে জমা পড়া ৪ লক্ষ ৩৪ হাজার ১৬টি অভিযোগের মধ্যে প্রায় ৯৯ শতাংশেরও বেশি অর্থাৎ ৪ লক্ষ ৩১ হাজার ৬৯৭টি অভিযোগ সফলভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ বহুমুখী জমি নিয়েও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে যোগী প্রশাসন। সরকারের নীতি অনুযায়ী, মাফিয়াদের কবল থেকে মুক্ত হওয়া এই জমিগুলো এখন রাজ্যবাসীর কল্যাণে শিল্পায়ন, উৎপাদন কেন্দ্র, লজিস্টিক পার্ক, বৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয় এবং অত্যাধুনিক মেডিকেল কলেজের মতো জনমুখী প্রকল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, লখনউতে কুখ্যাত মুখতার আনসারির অবৈধ দখল থেকে উদ্ধার করা জমিতে সম্প্রতি একটি আবাসন প্রকল্পের সফল উদ্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। একইভাবে লখনউ, কানপুর, রামপুর, আলিগড়, প্রয়াগরাজসহ বিভিন্ন জেলার দাগী মাশকুর আহমেদ, উজ্জ্বল দিদার সিং, রাজু গুপ্ত থেকে শুরু করে বহু হাই-প্রোফাইল অপরাধীদের কবল থেকে জমি কেড়ে নিয়ে রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরও বেশি গতিশীল করার কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।