জেলের ভেতর কি আর বেঁচে নেই ইমরান? পাক সাংবাদিকের বিস্ফোরক দাবিতে উত্তাল রাজনীতি

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের (Imran Khan) স্বাস্থ্য ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় তাঁর জীবনাবসান ঘটেছে—এমন এক বিস্ফোরক দাবি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিশিষ্ট পাকিস্তানি সাংবাদিক ওয়াজাহাদ সইদ খান শীর্ষস্থানীয় সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেছেন যে, গোপন সূত্রে তাঁদের কাছে এমন আশঙ্কা পৌঁছেছে। যদিও পরবর্তীতে তিনি স্পষ্ট করেন যে এটি কোনও নিশ্চিত গোয়েন্দা তথ্য নয়, বরং জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত মূল্যায়ন ও উদ্বেগ। তবে এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই পাকিস্তানজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। তোষাখানা দুর্নীতি মামলাসহ একাধিক অভিযোগে দীর্ঘ তিন বছর ধরে জেলে বন্দি রয়েছেন পাকিস্তানের এই জনপ্রিয় নেতা। এদিকে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI) এবং ইমরানের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। এমনকি জেলবন্দি নেতার সঙ্গে পরিবার, আইনজীবী বা দলীয় সতীর্থ কাউকেই দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এই কড়াকড়ি এবং গোপনীয়তার কারণেই তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে সন্দেহ ও উৎকণ্ঠা আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পিটিআই নেতৃত্ব কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি কড়া ভাষায় জানিয়েছেন যে, নেতার কিছু হলে সাধারণ মানুষের রোষ এবং ক্ষোভ কোনোভাবেই সামলাতে পারবে না প্রশাসন। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে এক বিশাল লং মার্চ সংগঠিত করা হবে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরেও চাপ বাড়তে শুরু করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ জন প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা দেশটির স্টেট সেক্রেটারি মার্কো রুবিওকে চিঠি লিখে ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবির কারাবাসের পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে জেলের অন্ধপ্রকোষ্ঠে থাকা ইমরানকে ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ময়দান