হালিশহরকাণ্ডে কড়া পদক্ষেপ! লকআপে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় আইও সাসপেন্ড, ক্লোজ করা হল আইসিকে

হালিশহর থানা হেফাজতে থাকাকালীন এক তৃণমূল কর্মীর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে লকআপে পিটিয়ে মারার গুরুতর অভিযোগ তুলেছে মৃতের পরিবার। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে রবিবার হালিশহুরে যান তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সোমবার সেখানে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শোকস্তব্ধ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পরই পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

কী ঘটেছিল হালিশহুরে?

মৃত তৃণমূল কর্মীর নাম বিরজু কেওত। তিনি কাঁচরাপাড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর জিনি শর্মার স্বামী এবং প্রাক্তন পুরপ্রধান তথা তৃণমূল নেতা কমল অধিকারীর ঘনিষ্ঠ ছায়াসঙ্গী হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন।

গত শুক্রবার তোলাবাজি সহ একাধিক অভিযোগে বিরজুকে গ্রেফতার করেছিল হালিশহর থানা। এরপর শনিবার ভোরে হঠাৎই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে দাবি পুলিশের। তাঁকে দ্রুত কল্যাণীর জেএনএম (JNM) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। তবে পুলিশের এই তত্ত্ব মানতে নারাজ মৃত কর্মীর পরিবার। তাঁদের স্পষ্ট অভিযোগ, পুলিশি হেফাজতে শারীরিক নির্যাতন চালিয়েই খুন করা হয়েছে বিরজুকে।

প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ ও ক্ষতিপূরণ ঘোষণা

মৃতের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর প্রশাসনিক গাফিলতি প্রমাণিত হওয়ায় বড় পদক্ষেপ করা হয়েছে। হালিশহর থানার আইও (IO) ফিরোজ মালিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং আইসি (IC) তমাল দত্তকে ক্লোজ করা হয়েছে।

পাশাপাশি, শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে একাধিক বড় ঘোষণা করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে:

  • মৃত কর্মীর স্ত্রীকে চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

  • মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্য বা চেক প্রদান করা হয়েছে।

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর আসল কারণ এবং নির্যাতনের মাত্রা আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এই ঘটনায় দুই পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে এমন শাস্তিমূলক পদক্ষেপে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।