রাজ্যে ফের দুর্যোগের মেঘ! আজ কি তবে ভাসবে আপনার জেলা? জানুন আবহাওয়ার কাঁপানো খবর

রাজ্যজুড়ে ফের আবহাওয়া পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। বিগত কয়েকদিনের লাগাতার বর্ষণে দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় জনজীবন ইতিমধ্যেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বীরভূম, বাঁকুড়াসহ একাধিক এলাকায় জল জমে সেতু ভেঙে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে এবং ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। এর মাঝেই আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আজ ১০ আগস্ট সোমবারও রাজ্যজুড়ে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং দুই বঙ্গেই বইতে পারে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া।

আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় উচ্চতায় মৌসুমি অক্ষরেখাটি বর্তমানে বিকানের, গোয়ালিয়র, উত্তর-পূর্ব মধ্যপ্রদেশ, সংলগ্ন ছত্তিশগড়ের ওপর অবস্থানরত নিম্নচাপ এলাকার কেন্দ্র এবং পুরী হয়ে সেখান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করেছে। এই অক্ষরেখাটি গড় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩.১ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এই আবহাওয়া সংক্রান্ত পরিস্থিতির প্রভাবেই মূলত দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গ জুড়ে এই বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

আজ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষ করে দুই মেদিনীপুর, দুই ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, হাওড়া এবং পুরুলিয়া জেলায় আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই জেলাগুলিতে বৃষ্টির পাশাপাশি ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া ঝাপটা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে হাওয়া অফিস। আবহাওয়া দফতর সূত্রে আরও জানানো হয়েছে যে, দক্ষিণবঙ্গে আগামী ১৪ আগস্ট পর্যন্ত এই হলুদ সতর্কতা বলবৎ থাকবে।

অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের অবস্থাও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে উত্তরবঙ্গের একাধিক এলাকার ভূপ্রকৃতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আজ উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষ করে মালদা, উত্তর দিনাজপুর এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে আজ বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বর্ষণের আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে স্বস্তির খবর হলো যে, আগামীকাল থেকে উত্তরবঙ্গে আর কোনো হলুদ সতর্কতা থাকছে না, যদিও দক্ষিণবঙ্গে দুর্যোগের আবহ বহাল থাকবে।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর সাধারণ মানুষকে এই পরিস্থিতিতে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে বজ্রপাতের সময় ফাঁকা মাঠে বা গাছের নিচে না থাকার জন্য এবং ঝোড়ো হাওয়ার সময় দুর্বল ঘরবাড়ি বা নির্মাণাধীন এলাকা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনগুলোর পক্ষ থেকেও নদী তীরবর্তী অঞ্চল এবং নিচু এলাকার বাসিন্দাদের ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে, যাতে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।