“মাথা ফেটে যেতে পারত, সবাই মারা যেতে পারতাম!” মমতার গাড়িতে হামলার ঘটনায় বিস্ফোরক অভিযোগ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর

রবিবার উত্তর ২৪ পরগনায় এক মৃত তৃণমূল কর্মীর শোকাহত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ির ওপর হামলার অভিযোগ উঠল। এই নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বিজেপিকে সরাসরি দায়ী করেছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
মমতার গাড়িতে হামলা ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহর বা সংশ্লিষ্ট এলাকায় যাওয়ার পথেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয় ও গাড়ির ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। তাঁর সঙ্গে সেই সময় লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেনও উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “পুলিশের সামনেই অসামাজিক লোকজন আমার গাড়িতে বড় বড় পাথর ছুঁড়েছে। হামলা এতটাই মারাত্মক ছিল যে, জানলা খোলা থাকলে আমার মাথা ফেটে যেত। আমরা সবাই মারা যেতে পারতাম!” পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, পুলিশ আদতে বিজেপিকে সুরক্ষা দিচ্ছে এবং রাজ্যে সম্পূর্ণ জঙ্গলরাজ চলছে। সেই সময় ঘটনাস্থল থেকে “চোর ভাগাও” স্লোগানও শোনা যায় বলে খবর।
বিজেপিকে তুলোধোনা করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
এই ঘটনার পরেই সামাজিক মাধ্যমে ও তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি বিজেপিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তিনি পোস্টে লেখেন, “বিজেপি সরকারের অধীনে বাংলায় আইনশৃঙ্খলার সম্পূর্ণ পতন ঘটেছে। আমাদের কর্মীদের দিনের আলোয় খুন করা হচ্ছে, পুলিশি হেফাজতে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে— কোনো বিচার নেই।” মমতার নিরাপত্তার প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক আরও বলেন, “আর এখন, রাজ্যের একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যখন এক শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন, তখন বিজেপির লাগানো গুন্ডারা তাঁর ওপর নৃশংসভাবে হামলা চালাল। আমাদের প্রিয় চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গুরুতর আহত হতে পারতেন। আগে ওরা আমাকে আক্রমণ করেছিল, এখন আমাদের চেয়ারপার্সনকেও আক্রমণ করল।” প্রশাসনিক ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে অভিষেকের কড়া বার্তা, যে সরকার মহিলাদের, রাজনৈতিক কর্মীদের এবং একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা দিতে পারে না, তাদের আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে কথা বলার কোনো অধিকার নেই। বাংলার মানুষ বিজেপির এই ভয় ও হিংসার রাজনীতির অবসান ঘটাতে প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।