“ভিডিও দেখতে আগ্রহী নই” মন্তব্যের জের! প্রধান বিচারপতিকে প্রধান অতিথি করায় ফুঁসছে নালসারের পড়ুয়ারা

ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্তকে হায়দরাবাদের নামী ন্যাশনাল একাডেমি অফ লিগ্যাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ (NALSAR) বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের একাংশ এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানিয়ে উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে লিখিত চিঠি পাঠিয়েছেন। ২০২৬ সালের ব্যাচের ৪৫০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের আপত্তির মূল কারণগুলি:

  • আন্দোলন ও পুলিশি নির্যাতন নিয়ে মন্তব্য: চিঠিতে শিক্ষার্থীরা সাম্প্রতিক কিছু সুপ্রিম কোর্টের শুনানির উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে, গত ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতন সংক্রান্ত শুনানিতে সিজেআই-এর বক্তব্য এবং ২৩ জুলাইয়ের শুনানিতে তাঁর “আমরা ভিডিও দেখতে আগ্রহী নই; দেখার সময় আমাদের নেই” মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন তাঁরা।

  • সংবিধান ও মানবাধিকারের প্রশ্ন: আইনের শিক্ষার্থীদের মতে, সমাবর্তন অনুষ্ঠানটি সাংবিধানিক অধিকার, মানবাধিকার এবং ন্যায়বিচারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত। পুলিশের লাঠিচার্জে আহত ছাত্র ও আন্দোলনকারীদের প্রতি প্রধান বিচারপতির এই উদাসীন মনোভাব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মূল চেতনার পরিপন্থী বলে মনে করছেন তাঁরা।

টিআইএসএস (TISS)-এর সাম্প্রতিক ঘটনা

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মুম্বইয়ের টাটা ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্সেস (TISS)-এর ৮৬তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানও শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়। সেই অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা ছিল সিজেআই সূর্য কান্তের। নিরাপত্তাজনিত কারণ এবং সম্ভাব্য বিক্ষোভের আশঙ্কায় শেষ মুহূর্তে সেই অনুষ্ঠান স্থগিত হওয়ায় ব্যাপক সমস্যায় পড়েছিলেন শিক্ষার্থীরা ও তাঁদের অভিভাবকরা।

নালসার বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ দেশের আইনি ও শিক্ষা মহলে নতুন করে বড়সড় বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। এখনো পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।