“নতুন নতুন দালাল তৈরি করেছে বিজেপি!” তৃণমূলত্যাগীদের মোদী-সাক্ষাৎ নিয়ে বিস্ফোরক অধীর চৌধুরী

তৃণমূলত্যাগী ও বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠক ও প্রাতঃরাশ সভা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গেছে। একদিকে যখন দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বাসভবনে এনসিপিআই (NCPI) ও শরিক দলের সাংসদরা ব্রেকফাস্ট মিটিংয়ে যোগ দিচ্ছেন, অন্যদিকে তখন কলকাতায় নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ঋতব্রত ও নব্য তৃণমূলের বিধায়করা। এই হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক আবহে পদ্ম শিবির ও দলত্যাগীদের বিরুদ্ধে বেজায় চপেটাঘাত হানলেন প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর চৌধুরী।
বিজেপিকে নিশানা করে অধীরের তোপ
এদিন বহরমপুরে এক সাক্ষাৎকারে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন বিজেপি ও দলত্যাগী নেতাদের। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এগুলো বিজেপি পার্টি নতুন নতুন দালাল তৈরি করেছে। এগুলো বিজেপি পার্টির শাখা-সংগঠন হিসেবে গড়ে উঠেছে। এনসিপিআই বলুন বা বিদ্রোহী বাংলার সাংসদরা—এঁরা সবাই বিজেপির নতুন শাখা। তাঁদের জন্যই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রাতঃরাশের দরজা খোলা, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও প্রাতঃরাশের দরজা খোলা। এগুলো সব একই সূত্রে গাঁথা।”
দিল্লি থেকে কলকাতা: একদিনের মেগা বৈঠকের ছবি
শুক্রবার দিনভর রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে একের পর এক চাঞ্চল্যকর বৈঠকের ছবি সামনে এসেছে:
দিল্লির প্রাতঃরাশ বৈঠক: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাতের পর এবার লোককল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনে ব্রেকফাস্ট মিটিংয়ে যোগ দেন এনসিপিআই সাংসদরা। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে মুর্শিদাবাদের তিন সংখ্যালঘু সাংসদ আবু তাহের, খলিলুর রহমান ও ইউসুফ পাঠান উপস্থিত ছিলেন। তবে শুটিংয়ের ব্যস্ততার কারণে এই বৈঠকে থাকতে পারেননি টলি সুপারস্টার তথা সাংসদ দেব।
কলকাতার নবান্ন বৈঠক: দিল্লিতে যখন এই ছবি, তখন ঠিক উল্টো ছবি দেখা যায় কলকাতায়। এসআইআর (SIR) ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত ইস্যু নিয়ে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ফিরহাদ হাকিমসহ ‘নব্য তৃণমূল’-এর প্রতিনিধি দল।
ফিরহাদ হাকিমের মন্তব্য: অতীতে বিরোধী নেতাদের সঙ্গে এমন মেলামেশা বা বৈঠকের রেওয়াজ ছিল কি না—এই প্রশ্নের জবাবে প্রাক্তন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানান, “কোনও কারণে ছিল না। আমি চেয়েছিলাম কিন্তু হয়নি, এটা দুর্ভাগ্য।”
একদিকে প্রধানমন্ত্রী ও অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ধারাবাহিক এই রাজনৈতিক বৈঠক এবং অধীর চৌধুরীর ‘দালাল’ তত্ত্ব ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা ও তরজা শুরু হয়েছে।