বাড়িতে রাখা কোন খাবারে লুকিয়ে রয়েছে মারণ বিষ? মেয়াদ শেষের আগেই আজই ফেলে দিন!

রান্নাঘর আমাদের পরিবারের সুস্বাস্থ্যের কেন্দ্রবিন্দু হলেও সামান্য অসাবধানতা এটিকেই বানিয়ে তুলতে পারে মারণ রোগের আঁতুড়ঘর। বাজার থেকে গ্রোসারি বা প্যাকেটজাত খাবার কেনার সময় আমরা অনেকেই উৎপাদনের তারিখ বা এক্সপায়ারি ডেট সেভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখি না। অথচ মেয়াদোত্তীর্ণ বা এক্সপায়ার্ড খাবার গ্রহণ করার কারণে সারা দেশে প্রতিদিন অজান্তেই বহু মানুষ ফুড পয়জনিং, তীব্র পেটের সংক্রমণ, বমি এবং দীর্ঘমেয়াদী হজমের জটিলতায় আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করছেন যে, প্রতিটি খাদ্যদ্রব্যের নিজস্ব স্থায়িত্ব এবং একটি নির্দিষ্ট জীবনচক্র রয়েছে, যা পার হওয়ার পর তাতে মারাত্মক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস এবং টক্সিন জন্ম নিতে শুরু করে।
দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে অপরিহার্য উপাদান যেমন দুধ এবং দুগ্ধজাত পণ্যের ক্ষেত্রে এই নিয়ম অত্যন্ত কঠোর। তাজা গরুর দুধ ফ্রিজে রাখার পরেও সাধারণত এক থেকে দুদিনের বেশি ভালো থাকে না, তবে প্যাকেটজাত পাস্তুরাইজড দুধ ফুটিয়ে সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করলে সর্বোচ্চ তিন থেকে চার দিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে, পনির বা ছানা সাধারণত ফ্রিজে রাখলে দুই থেকে তিন দিন এবং মাখন বা ঘি সঠিকভাবে ঢাকনা বন্ধ করে রাখলে কয়েক মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে। চাল, ডাল, গম কিংবা বিভিন্ন ধরনের ময়দার মতো শুকনো দানাদার খাদ্যদ্রব্য যদি সম্পূর্ণ বায়ুরোধী পাত্রে আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখা হয়, তবে তা এক বছর বা তার বেশি সময় ধরে নিরাপদ থাকে। তবে সেগুলোতে যদি কোনো কারণে ফাঙ্গাস বা উইপোকার আক্রমণ ঘটে, তবে তা তৎক্ষণাৎ বর্জন করা উচিত।
প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, বিস্কুট এবং চিপসের প্যাকেটের গায়ে সিল করা অবস্থায় সাধারণত ছয় থেকে নয় মাস পর্যন্ত মেয়াদ লেখা থাকে। কিন্তু প্যাকেট একবার খুলে ফেললে বাতাস ও আর্দ্রতার সংস্পর্শে এসে সেগুলির মুচমুচে ভাব নষ্ট হয়ে যায় এবং দ্রুত ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে, তাই খোলার পর যত দ্রুত সম্ভব তা শেষ করা উচিত। সস, জ্যাম এবং আচার জাতীয় খাদ্যে প্রিজারভেটিভ থাকার কারণে সেগুলি তুলনামূলক বেশি দিন টেকে, তবে কন্টেইনারের গায়ে ফাঙ্গাসের সাদা আস্তরণ দেখা গেলেই তা আর খাওয়া যাবে না। হিমায়িত মাংস, মাছ বা প্রক্রিয়াজাত খাবার ডিপ ফ্রিজে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকতে পারে, তবে বারবার বরফ গলানো এবং পুনরায় জমানোর ফলে সেগুলির পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে বিষাক্ত হয়ে ওঠে। আপনার ও আপনার পরিবারের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে প্রতিদিন রান্নার আগে প্রতিটি উপকুলের মেয়াদ এবং সতেজতা যাচাই করে নেওয়া আজ থেকেই অভ্যাসে পরিণত করুন।