প্রয়াত ব্রিটিশ অভিনেত্রী জিন লজ: ৯৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ‘দ্য ব্ল্যাক নাইট’ খ্যাত তারকা!

১৯৫৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত জনপ্রিয় মধ্যযুগীয় অ্যাডভেঞ্চারধর্মী চলচ্চিত্র ‘দ্য ব্ল্যাক নাইট’-এ বিখ্যাত অভিনেতা অ্যালান ল্যাডের সঙ্গে দুর্দান্ত অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করা ব্রিটিশ অভিনেত্রী জিন লজ আর নেই। জীবনের ৯৯টি বসন্ত পার করে তিনি পাড়ি দিয়েছেন না ফেরার দেশে। তাঁর নাতনি অ্যামি শগনেসি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, নিজের ৯৯তম জন্মদিনের ঠিক একদিন পরেই বুধবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই প্রবীণ অভিনেত্রী। তাঁর এই প্রয়াণে ব্রিটিশ ও হলিউডের বিনোদন জগতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

জিন লজের পরিবার অত্যন্ত প্রতিভাবান ও খ্যাতনামা শিল্পীদের নিয়ে গঠিত। তাঁর দুই সন্তান—চার্লস শগনেসি এবং ডেভিড শগনেসি বিনোদন ইন্ডাস্ট্রির অত্যন্ত পরিচিত মুখ। ছেলে চার্লস শগনেসি জনপ্রিয় মার্কিন ধারাবাহিক ‘দ্য ন্যানি’-তে ম্যাক্সওয়েল শেফিল্ড এবং ‘ডেজ অফ আওয়ার লাইভস’-এ শেন ডোনোভান চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে তুমুল খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। অন্যদিকে, অপর ছেলে ডেভিড শগনেসি বিখ্যাত শো ‘দ্য ইয়ং অ্যান্ড দ্য রেস্টলেস’-এর সফল প্রযোজক এবং ‘দ্য বোল্ড অ্যান্ড দ্য বিউটিফুল’-এর নির্দেশক হিসেবে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। প্রখ্যাত অভিনেত্রী জিন লজের ব্যক্তিগত জীবনও ছিল বেশ বর্ণময় ও সফল।

১৯৪৮ সাল থেকে ২০০৫ সালে তাঁর স্বামীর প্রয়াণ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় তাঁরা একসঙ্গে সংসার করেন। তাঁর স্বামী আলফ্রেড শগনেসি ছিলেন দুবার এমি-মনোনীত বিশিষ্ট চিত্রনাট্যকার। ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সম্প্রচারিত অত্যন্ত প্রশংসিত ও জনপ্রিয় আইটিভি সিরিজ ‘আপস্টেয়ার্স, ডাউনস্টেয়ার্স’-এর প্রধান লেখক ও প্রযোজক হিসেবে অনন্য অবদান রেখেছিলেন তিনি। ১৯২৭ সালের ৪ আগস্ট ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারের হাল শহরে জন্ম নেওয়া জিন মার্গারেট লজ উইন্ডসর রেপার্টরি কোম্পানিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর বর্ণাঢ্য মঞ্চজীবন শুরু করেছিলেন। এরপর ১৯৪৯ সালে ‘ডিক বার্টন স্ট্রাইকস ব্যাক’ ও ‘ডক্টর মোরেল: দ্য কেস অফ দ্য মিসিং হেইরেস’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে তাঁর সফল পদার্পণ ঘটে।

চলচ্চিত্রের সোনালী যুগে একের পর এক স্মরণীয় কাজ করে গেছেন জিন লজ। ‘দ্য ব্ল্যাক নাইট’ চলচ্চিত্রে কিংবদন্তি অভিনেতা পিটার কুশিংয়ের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করে তিনি রাজা আর্থারের স্ত্রী রানী গুইনিভেরের ঐতিহাসিক চরিত্রে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন। এর আগে ১৯৫২ সালে কেনেথ মোরের সঙ্গে ‘ব্র্যান্ডি ফর দ্য পার্সন’ নামক হাস্যরসাত্মক কমেডি ছবিতেও সহ-অভিনেত্রী হিসেবে দারুণ কাজ করেন তিনি। তাঁর বর্ণাঢ্য অভিনয় জীবনের ঝুলিতে রয়েছে ‘হোয়াইট করিডোরস’ (১৯৫১), ‘ফাইনাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট’ (১৯৫৪), ‘অ্যাক্সিডেন্টাল ডেথ’ (১৯৬৩), ‘দ্য আইজ অফ অ্যানি জোন্স’ (১৯৬৩) এবং ‘ইনভেশন’ (১৯৬৬)-এর মতো একাধিক প্রশংসিত সিনেমা।

নাতনি অ্যামি শগনেসি তাঁর প্রিয় দাদির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অত্যন্ত আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “আমার দাদি ছিলেন একাধারে অত্যন্ত সুন্দরী, প্রতিভাবান, জটিল, আবেগপ্রবণ এবং প্রাণবন্ত এক নারী, যিনি সর্বদা এক অনন্য জীবনশক্তিতে ভরপুর ছিলেন।” নিখুঁত গৃহকর্ত্রী হিসেবে থিয়েটার, বাগান করা, সঙ্গীতচর্চা, প্রকৃতিপ্রেম, সুস্বাদু রান্না এবং শিল্পকলা সবকিছুর সঙ্গেই তাঁর ছিল নিবিড় যোগ। মৃত্যুর সময়ে তিনি নিজের পুত্রদের পাশাপাশি নাতনি জেনি, কেটি, ম্যাডি, জোসি এবং প্রপৌত্র জুলিয়ান ও নোয়া সহ এক বর্ণময় ভরা পরিবারকে রেখে গেছেন। তাঁর এই প্রয়াণে এক স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty