ব্যাঙ্ককের কাছে স্কুল ভবনে এলোপাথাড়ি গুলি! হামলাকারী ছাত্রের কাণ্ডে কাঁপল থাইল্যান্ড

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্কক থেকে মাত্র বিশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ননথাবুরি প্রদেশের একটি নামী স্কুলে ভয়াবহ বন্দুকবাজের হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকালে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাঙ্ককের কাছাকাছি অবস্থিত ‘দেবসিরিন ননথাবুরি স্কুল’-এ এই সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গিয়েছে, ওই স্কুলেরই অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্র আচমকা এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় একজন শিক্ষকের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে এবং কমপক্ষে ১৫ জন কোমলমতি পড়ুয়া গুরুতর জখম হয়েছেন। পুরো স্কুল চত্বরে চরম ত্রাসের সৃষ্টি হয়।
থাই পিবিএস এবং ব্যাংকক পোস্টের প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে, হামলাকারী ছাত্রটি ঘটনার পর স্কুল ভবনের তৃতীয় তলায় একটি ঘরের মধ্যে নিজেকে আটকে রেখেছিল। প্রত্যক্ষদর্শী এক ১৮ বছর বয়সি ছাত্র সংবাদমাধ্যমকে তার অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে জানায়, প্রথমে যখন গুলির শব্দ শোনা গিয়েছিল, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন হয়তো কোথাও আতশবাজি ফাটছে বা কোনো ভারী জিনিস পড়ার শব্দ হচ্ছে। কিন্তু পরপর একাধিক গুলির শব্দ শুনে পরিস্থিতি স্পষ্ট হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে পুরো চত্বর থমথমে হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং জরুরি পরিষেবার কর্মীরা।
জরুরি পরিষেবা দলগুলির প্রকাশিত বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ছবিতে দেখা গেছে যে দেবসিরিন ননথাবুরি স্কুল ভবন থেকে আতঙ্কিত শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। স্কুল চত্বরের বাইরে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল একাধিক অ্যাম্বুল্যান্স। উদ্ধারকারী দলের কর্মীরা আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন এবং গুরুতর জখমদের দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে আরও জানা গেছে যে, এই নৃশংস কাণ্ড ঘটানোর পর অভিযুক্ত হামলাকারী ছাত্র নিজেই নিজের ওপর গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছে। যার ফলে হামলাকারীর উদ্দেশ্য নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ওই বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৩,১০০ জন শিক্ষার্থী এবং ১৪৭ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নথিভুক্ত ছিলেন। এত বড় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ন্যক্কারজনক হামলা কীভাবে সম্ভব হলো, তা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা মহলে গভীর প্রশ্ন উঠেছে। কীভাবে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র এল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে থাইল্যান্ডের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।