আত্মবিশ্বাসের চরম সংকট! কর্মক্ষেত্রে নারীরা কেন বারবার ‘ইম্পোস্টার সিন্ড্রোমে’ আক্রান্ত হন?

কাজের দুনিয়ায় সাফল্য অর্জন করার পরও নিজের যোগ্যতাকে অস্বীকার করার প্রবণতা বা সবকিছুকে নিছক ভাগ্য বলে চালিয়ে দেওয়ার মানসিক অবস্থাকে মনোবিদ্যার ভাষায় বলা হয় ‘ইম্পোস্টার সিন্ড্রোম’। সাম্প্রতিক একাধিক মনস্তাত্ত্বিক গবেষণা এবং সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুরুষদের তুলনায় নারী সমাজে এই মানসিক সমস্যার প্রকোপ ও তীব্রতা অনেক বেশি মাত্রায় লক্ষ্য করা যায়। সমাজের তৈরি করা অবাস্তব প্রত্যাশার চাপ, পেশাগত ক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য এবং নিজের ভেতর জন্ম নেওয়া এক অদ্ভুত হীনম্মন্যতাই মূলত এই বিশেষ পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমাজ ছোটবেলা থেকেই নারীদের শিখিয়ে বড় করে যে তাদের নিখুঁত হতে হবে। ঘরের কাজ সামলানো থেকে শুরু করে অফিসের বড় কর্পোরেট প্রজেক্ট—সব জায়গায় শতভাগ নিখুঁত বা পারফেক্ট হওয়ার এই সামাজিক চাপ নারীদের মনে এক ধরনের অপরাধবোধ তৈরি করে। যখন কোনো নারী কর্মক্ষেত্রে আকাশছোঁয়া সাফল্য অর্জন করেন, তখন অবচেতন মন বারবার বলতে থাকে যে তিনি এই পদের যোগ্য নন এবং যেকোনো মুহূর্তে তাঁর এই মুখোশ খুলে যাবে। একেই চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ইম্পোস্টার ফিলিংস’ বলা হয়। কর্পোরেট দুনিয়ায় অনেক উচ্চপদস্থ ও সফল নারীরাও এই অদৃশ্য ভয়ে ভোগেন যে, সহকর্মীরা হয়তো একদিন বুঝে ফেলবেন তিনি আসলে কতটা অযোগ্য।

পেশাগত সাফল্যের নেপথ্যে নিজের কঠোর পরিশ্রম ও মেধার স্বীকৃতি না দিয়ে ভাগ্য বা কাকতালীয় ঘটনা বলে উড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। অফিসের মিটিংয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করার সময় দ্বিধাবোধ, পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নিজেকে প্রমাণ করার অতিরিক্ত জেদ এবং পদে পদে পারফেকশনিজম বজায় রাখার অসম্ভব তাগিদ তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেপথ্য প্রভাব ফেলে। এই দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ধীরে ধীরে হতাশা, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা এবং দীর্ঘ ক্লান্তি বা বার্নআউটের রূপ নেয়। এই ধরনের মানসিক অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে মনস্তাত্ত্বিকরা পরামর্শ দিচ্ছেন নিজের ছোট ছোট সাফল্যগুলোকে উদযাপন করার, নেতিবাচক আত্ম-সমালোচনা বন্ধ করার এবং নিজের ভুলের প্রতি সদয় হওয়ার মানসিকতা তৈরি করার।