২,০০০ টাকার বেশি ইউপিআই পেমেন্টে বড় ধাক্কা! পকেটে টান পড়তে চলেছে সাধারণ মানুষের?

ভারতের সর্বব্যাপী ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় খুব শীঘ্রই এক বড়সড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা জোরালো হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, খুব শীঘ্রই ২,০০০ টাকার বেশি ইউপিআই (UPI) পেমেন্টের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চার্জ বা মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (MDR) চালুর কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ গ্রাহকদের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং নির্বিঘ্নে ইউপিআই পরিষেবা উপভোগ করার পর, এবার কি তবে পকেট থেকে বাড়তি অর্থ খরচ করতে হবে সাধারণ মানুষকে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে দেশের কোটি কোটি ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারকারীর মনে।

মূলত এমডিআর (MDR) বা মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট হলো সেই নির্দিষ্ট ফি, যা ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করার জন্য ব্যবসায়ীরা সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক বা পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাকে প্রদান করে থাকেন। প্রসঙ্গত, ২০২০ সাল থেকে ভারতে ইউপিআই লেনদেনের ক্ষেত্রে এই চার্জ সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়া হয়েছিল, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ডিজিটাল লেনদেনকে জনপ্রিয় করে তোলা এবং নগদ লেনদেনের প্রবণতা কমানো। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউপিআই নেটওয়ার্কের বিশাল আকার, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, সাইবার নিরাপত্তা এবং রক্ষণাবেক্ষণের বিপুল খরচ সামলানোর জন্য নতুন আয়ের উৎস খোঁজা জরুরি হয়ে পড়েছে।

প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই চার্জের আওতায় মূলত বড় বড় ব্যবসায়ীদের (Large Merchants) নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে। বলা হচ্ছে, ২,০০০ টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনের ক্ষেত্রে বড় ব্যবসায়ীদের ওপর প্রায় ০.২৫ শতাংশ থেকে ০.৪০ শতাংশ পর্যন্ত এমডিআর ধার্য করা হতে পারে। কিছু সংবাদমাধ্যমে আবার ০.৩ শতাংশ থেকে ০.৫ শতাংশ পর্যন্ত চার্জের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের স্বস্তির বিষয় হলো, ছোট ব্যবসায়ী এবং সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে হওয়া ব্যক্তিগত বা পিটুপি (P2P) লেনদেনকে এই প্রস্তাবিত নিয়মের বাইরে রাখার কথা ভাবা হচ্ছে।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, সাধারণ ইউপিআই ব্যবহারকারীদের কি সরাসরি এই অতিরিক্ত টাকা বহন করতে হবে? এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত যা তথ্য সামনে এসেছে, তাতে সাধারণ গ্রাহকদের সরাসরি কোনো বাড়তি চার্জ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। এমডিআর মূলত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেই কাটা হয়। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ব্যবসায়ীরা এই অতিরিক্ত খরচ পুষিয়ে নেওয়ার জন্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারেন, যা পরোক্ষভাবে সাধারণ ক্রেতার ওপরই চাপ সৃষ্টি করবে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্র সরকার কিংবা রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) কোনো চূড়ান্ত নির্দেশিকা জারি করেনি।

সরকার কেন হঠাৎ এই পরিবর্তনের কথা ভাবছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সময়ে ইউপিআই বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এবং ব্যস্ততম ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন কোটি কোটি আর্থিক লেনদেন হওয়ায় ব্যাঙ্ক, ফিনটেক সংস্থা এবং পেমেন্ট গেটওয়েগুলির পরিকাঠামো বজায় রাখার খরচ আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে। খোদ আরবিআই জানিয়েছে যে এই বিপুল ব্যবস্থার খরচ কোনো না কোনো পক্ষকে বহন করতেই হবে। তাই দীর্ঘমেয়াদে ইউপিআই ব্যবস্থাকে আর্থিকভাবে টেকসই এবং সচল রাখতে এমডিআর পুনর্বহাল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ কমানোটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।