নবান্নে আচমকা মুখোমুখি শুভেন্দু-হুমায়ুন! চরম দ্বন্দ্ব ভুলে গোপন বৈঠকে কোন বড় রহস্য?

নবান্নের অন্দরে রাজনৈতিক পারদ চড়িয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের সঙ্গে এক সৌজন্যমূলক কিন্তু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সাক্ষাৎ সারলেন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। সাম্প্রতিক অতীতে উসকানিমূলক মন্তব্য ঘিরে যে রাজনৈতিক ঝড়ের সৃষ্টি হয়েছিল এবং বিধানসভার অন্দরে যে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারিত হয়েছিল, তার ঠিক পরেই এই মুখোমুখি বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা ও গুঞ্জন। প্রসঙ্গত, পূর্বে হুমায়ুন কবীরের এক বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে রাজ্যজুড়ে চরম চাপানউতোর তৈরি হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গের রেশ ধরে কড়া বার্তা দিয়ে বলা হয়েছিল যে মুর্শিদাবাদে গিয়ে আইন অনুযায়ী অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ করা হবে এবং সমাবেশে যারা বিশৃঙ্খলা ডেকেছে তাদের সবার আগে আইনের আওতায় আনা হবে। হুমায়ুনকে ২৫ বার ভেবে কথা বলার এবং অবিলম্বে নিজের মন্তব্য সংশোধন করার চরম বার্তা দেওয়া হয়েছিল। এর পরপরই একাধিক থানায় ডেকে লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল ওই বিধায়ককে।
এমন উত্তপ্ত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঠিক মাঝেই এদিন নবান্নে হাজির হন হুমায়ুন কবীর। বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমকে তিনি সাফ জানান যে তিনি অনেক আগেই মুখ্যমন্ত্রীকে টেক্সট মেসেজ করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট চেয়েছিলেন এবং সেইমতো নির্দিষ্ট সময়েই তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন। প্রায় সন্ধ্যে ছ’টা নাগাদ এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় যেখানে মূলত মুর্শিদাবাদ জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। নওদার বিধায়ক আরও জানান যে ২৬ মে তাঁর একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে বিধানসভায় যে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গে তিনি মনে করেন যে নিজ দায়িত্বে কথা বলার পূর্ণ অধিকার যেমন তাঁর নিজের রয়েছে, তেমনই প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে কড়া অবস্থান নেওয়ার অধিকারও সকলের রয়েছে।
বৈঠকে ঠিক কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে?
রাজনৈতিক মহলের তীব্র জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট জানিয়েছেন যে এই বৈঠকে রাজ্য রাজনীতির কোনো গোপন সমীকরণ নিয়ে কথা হয়নি। বরং সম্পূর্ণভাবে মুর্শিদাবাদ জেলার সার্বিক উন্নয়ন এবং এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের কিছু মৌলিক দাবি ও অমীমাংসিত সমস্যা নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে বিশেষ করে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনমুখী প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জোরালো আবেদন রেখেছেন। প্রথমত, নওদা বিধানসভার খেটে খাওয়া চাষিদের উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণের জন্য একটি আধুনিক শীততাপ নিয়ন্ত্রিত হিমঘর বা কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ। দ্বিতীয়ত, রেজিনগর বিধানসভার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের প্রধান অন্তরায় দূর করতে ভাগীরথী নদীর উপর একটি নতুন সেতু নির্মাণ করা।
হুমায়ুন কবীরের দাবি, রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তাঁর সমস্ত বক্তব্য ও দাবিগুলো মনোযোগ সহকারে শুনেছেন এবং জেলার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। এলাকার দীর্ঘদিনের দাবিগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে শোনার জন্য এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। মুর্শিদাবাদ জেলার প্রতিটি সাধারণ মানুষের অধিকার, অগ্রগতি এবং উন্নয়নের চাকা সচল রাখতে এই ধরনের প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।