মাঝরাতে খোদ ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’-এর ফোন! প্রদীপ রাওয়াতের জীবনের অজানা গল্প শুনলে চমকে যাবেন

বলিপাড়ায় শোকের ছায়া নামিয়ে সম্প্রতি ৭৪ বছর বয়সে ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে প্রয়াত হয়েছেন বিশিষ্ট অভিনেতা প্রদীপ রাওয়াত। দূরদর্শন বা বড় পর্দায় ‘মহাভারত’-এর অশ্বত্থামা, ‘গজিনি’-র ভয়ঙ্কর খলনায়ক কিংবা অস্কার-মনোনীত ‘লগান’ ছবির অপ্রতিরোধ্য ‘দেবা’—তাঁর প্রতিটি চরিত্রই আজও দর্শকদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। কিংবদন্তি এই অভিনেতার প্রয়াণের মাঝেই বর্তমানে নেটপাড়ায় ভাইরাল হয়েছে তাঁর জীবনঘনিষ্ঠ এক দারুণ আকর্ষণীয় এবং মজার স্মৃতি, যা সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়।
ঘটনাটি সেসময়ের যখন ‘লগান’ ছবির প্রস্তুতি চলছে। ঘড়ির কাঁটায় তখন গভীর রাত, চারদিক একেবারে নিঃঝুম। ঠিক সেই সময় আচমকাই বেজে ওঠে প্রদীপ রাওয়াতের ঘরের ল্যান্ডলাইন ফোনটি। মাঝরাতে এমন আকস্মিক ফোন বেজে ওঠায় চরম বিরক্তি নিয়েই রিসিভার তুলে নেন প্রদীপের বোন। ফোনের ওপার থেকে অত্যন্ত বিনীতভাবে কেউ কথা বলার চেষ্টা করলেও তিনি বুঝতেই পারেননি যে খোদ ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান নিজে কথা বলছেন।
উল্টো দিক থেকে আমির খান বারবার নিজের পরিচয় দিয়ে কথা বলার চেষ্টা করলেও প্রদীপের বোন মেজাজ হারিয়ে উল্টো তাঁকেই ধমক লাগিয়ে বসেন। মাঝরাতে এমন ফোন পেয়ে তাঁর মনে হয়েছিল কেউ বুঝি ফাজলামো করছে। প্রবল বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেই ফেলেছিলেন, “এত অভদ্রতা কেন করছেন বলুন তো?” জবাবে আমির খান হকচকিয়ে গিয়ে ইতস্তত করে বলেন, “আরে সত্যি বলছি, আমি আমির খান বলছি! এটা কি প্রদীপজির বাড়ি?” কিন্তু প্রদীপের বোন কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারেননি যে কোনো সুপারস্টার এভাবে মাঝরাতে সরাসরি ফোন করতে পারেন।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আমির তখন ফোনটি বাড়িয়ে দেন ‘সরফরোশ’ ছবির অন্যতম লেখক উমাশঙ্কর পাঠকের হাতে। উমাশঙ্কর প্রায়ই প্রদীপের বাড়ি যাতায়াত করতেন। ফোন ধরেই তিনি প্রদীপের বোনকে আশ্বস্ত করেন যে সত্যি সত্যিই এটা আমির খানের ফোন। এরপর তিনি নির্দেশ দেন, “প্রদীপকে কাল সকালেই সোজা আমিরের অফিসে চলে যেতে বলো, সেখানে গিয়ে ছবির চুক্তিপত্র সই করতে এবং পারিশ্রমিকের চেক তুলে নিতে বলো।”
এদিকে রাত তিনটে নাগাদ শুটিং সেরে ক্লান্ত হয়ে যখন প্রদীপ রাওয়াত বাড়ি ফেরেন, তখন দেখেন বাড়ির সবাই জেগে বসে আছে। সবার চোখে-মুখে উপচে পড়ছে চরম উত্তেজনা—কারণ আর কেউ নন, স্বয়ং আমির খান তাঁদের বাড়িতে ফোন করেছিলেন!
পরবর্তীকালে এক সাক্ষাৎকারে প্রদীপ রাওয়াত নিজেই ফাঁস করেছিলেন যে, ‘লগান’ ছবিতে তাঁর অমর হয়ে থাকা ‘দেবা’ চরিত্রটি আদতে অফার করা হয়েছিল জনপ্রিয় অভিনেতা মুকেশ ঋষিকে। কিন্তু সেই সময় মুকেশের হাতে দক্ষিণ ভারতের একসঙ্গে ছ’টি বড় সিনেমা ছিল। আমির খান প্রোডাকশনস-এর ওই পিরিয়ড ড্রামার জন্য একসঙ্গে অনেকগুলো ডেটের প্রয়োজন থাকলেও, ডেট অ্যাডজাস্ট করতে না পারায় মুকেশ সেই ছবি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।
আর ঠিক সেই মুহূর্তেই তুরুপের তাস হয়ে সুযোগ এসে পৌঁছায় প্রদীপের দরজায়। এর আগে আমিরের সঙ্গেই ‘সরফরোশ’ ছবিতে ‘সুলতান’-এর চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করেছিলেন প্রদীপ। সেই অভিনয়ই আমির খানের মনে দাগ কেটেছিল। মুকেশ ঋষি ডেট দিতে না পারার কারণেই লটারির মতো সেই ঐতিহাসিক সুযোগ এসে পৌঁছায় প্রদীপের হাতে। পরবর্তীকালে প্রদীপ রাওয়াত বহুবার কৃতজ্ঞতাভরে মুকেশ ঋষিকে স্মরণ করে বলতেন, “মুকেশ ভাই সেদিন ‘লগান’ ছেড়েছিলেন বলেই পর্দায় দেবা হয়ে অমর হয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম।”