দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা পাথর কি আপনাকে বিব্রত করছে? আজই এই উপায়গুলি না মানলে বড় মাশুল গুনতে হবে!

আমাদের শরীরের অন্যতম সুন্দর এবং আকর্ষণীয় অঙ্গ হলো আমাদের হাসি। আর সেই হাসির আসল সৌন্দর্য নির্ভর করে ঝকঝকে ও পরিষ্কার দাঁতের ওপর। কিন্তু অনেক সময় প্রতিদিন নিয়মিত দু’বেলা ব্রাশ করার পরেও দাঁতের গোড়ায় হলুদ বা বাদামী রঙের শক্ত আস্তরণ বা পাথর জমতে শুরু করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ডেন্টাল ক্যালকুলাস বা প্লাক। মুখের লালার মধ্যে থাকা খনিজ পদার্থ এবং খাদ্যের অবশিষ্টাংশ দীর্ঘ সময় ধরে দাঁতের গায়ে জমতে জমতে এই পাথরের সৃষ্টি করে। যদি সময়মতো এই সমস্যার প্রতিকার করা না হয়, তবে এটি শুধু দাঁতের সৌন্দর্যই নষ্ট করে না, বরং মাড়ি থেকে রক্তপাত, দাঁত নড়ে যাওয়া এবং মুখে দুর্গন্ধের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই সময় থাকতেই এই বিষয়ে সতর্ক হওয়া এবং ঘরোয়া কিছু কার্যকরী উপায় অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি।
দাঁতের এই জেদী পাথর বা প্লাক দূর করার জন্য বেশ কিছু প্রাকৃতিক এবং ঘরোয়া পদ্ধতি দারুণ কার্যকরী প্রমাণিত হতে পারে। প্রথমত, বেকিং সোডার ব্যবহার এক্ষেত্রে জাদুর মতো কাজ করে। সামান্য পরিমাণ বেকিং সোডার সঙ্গে সামান্য জল মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে তা দিয়ে সপ্তাহে দু’বার হালকা হাতে দাঁত মাজলে দাঁতের হলুদ ভাব এবং পাথরের আস্তরণ কাটতে শুরু করে। বেকিং সোডার ক্ষারীয় গুণ দাঁতের ওপর জমে থাকা অ্যাসিডের প্রভাব neutralize করতে সাহায্য করে। দ্বিতীয়ত, তেল দিয়ে কুলকুচি করা বা ‘অয়েল পুলিং’ একটি অত্যন্ত প্রাচীন এবং বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক চামচ খাঁটি নারকেল তেল মুখে নিয়ে অন্তত দশ থেকে পনেরো মিনিট কুলি করে ফেলে দিলে মুখের ভেতরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এবং টক্সিন দূর হয়, যা নতুন করে পাথর জমতে বাধা দেয়।
এছাড়াও, লেবুর রস এবং নুনের মিশ্রণ দাঁত পরিষ্কার রাখতে চমৎকার কাজ করে। লেবুতে থাকা প্রাকৃতিক সাইট্রিক অ্যাসিড দাঁতের দাগ এবং পাথর গলাতে সাহায্য করে, তবে এর ব্যবহার খুব বেশি ঘন ঘন করা উচিত নয় কারণ অতিরিক্ত অ্যাসিড দাঁতের এনামেলের ক্ষতি করতে পারে। অন্যদিকে, কাঁচা পেয়ারা পাতা চিবানো কিংবা পেয়ারা পাতার পেস্ট দাঁতে লাগালেও মাড়ি শক্ত হয় এবং দাঁতের নানা সমস্যা দূর হয়। পাশাপাশি, হাইড্রোজেন পারজক্সাইড এবং জলের মিশ্রণ দিয়ে মুখ ধোয়াও একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে যে, ঘরোয়া উপায়গুলো প্রাথমিক পর্যায়ে বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে অত্যন্ত কার্যকর হলেও, যদি পাথর খুব বেশি শক্ত হয়ে যায় তবে দেরি না করে অবশ্যই একজন পেশাদার দন্ত চিকিৎসকের (Dentist) পরামর্শ নিয়ে স্কেলিং বা প্রফেশনাল ক্লিনিং করিয়ে নেওয়া উচিত। আপনার সামান্য অবহেলা বা এড়িয়ে যাওয়ার মানসিকতা পরবর্তীতে আপনার সুন্দর হাসি এবং মুখের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আজই সচেতন হোন এবং সঠিক যত্ন নিন।