চাকরির পিছু না ছুটে কচু চাষে সোনা ফলাচ্ছেন উত্তরপ্রদেশের যুবক! আয় শুনলে চোখ কপালে উঠবে!

চাকরির পেছনে অন্ধের মতো ছোটার প্রচলিত ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়ে উত্তরপ্রদেশের গোন্ডা জেলার যুবকেরা এখন আধুনিক এবং সম্পূর্ণ জৈব চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন। উচ্চশিক্ষা বা ডিগ্রি অর্জনের পর প্রথাগত চাকুরির আশায় না থেকে স্বাবলম্বী হওয়ার এক উজ্জ্বল নজির সৃষ্টি করেছেন জেলার এক তরুণ স্নাতক রাঘবেন্দ্র মিশ্র। গত চার বছর ধরে তিনি সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জৈব কচু চাষ করে এক অভাবনীয় অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছেন। আজ তাঁর এই কঠোর পরিশ্রম এবং দূরদর্শিতার সুফল হিসেবে একদিকে যেমন বাম্পার ফলন হচ্ছে, তেমনই পকেটে আসছে মোটা অংকের আয়, যা এলাকার অন্যান্য বেকার যুবকদের কাছে এক অনুকরণীয় পথপ্রদর্শক হয়ে উঠেছে।

লোকাল ১৮-কে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে প্রগতিশীল তরুণ কৃষক রাঘবেন্দ্র মিশ্র তাঁর এই অনুপ্রেরণামূলক সাফল্যের গল্প শেয়ার করেছেন। তিনি জানান যে তাঁর পরিবার বহু প্রজন্ম ধরে প্রথাগত বা প্রচলিত পদ্ধতিতে কৃষিকাজ করে আসছে। কিন্তু তিনি সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে কিছু একটা ব্যতিক্রমী এবং লাভজনক করার সুদৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই ভাবনা থেকেই তিনি প্রথাগত রাসায়নিক চাষ পদ্ধতি বাদ দিয়ে সম্পূর্ণভাবে জৈব চাষের ওপর ভরসা রাখেন। নিজের জমিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক সার কিংবা বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহার করার পরিবর্তে তিনি পুরোপুরি পরিবেশবান্ধব পচানো গোবর, উচ্চমানের ভার্মিকম্পোস্ট এবং পুষ্টিকর জীবামৃত ব্যবহার করা শুরু করেন। এই ধরনের প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের ফলে কেবল উৎপাদিত ফসলের গুণমান বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এমন নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে জমির উর্বরতাশক্তিও সুরক্ষিত রয়েছে।

চাষের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত দিক সম্পর্কে আলোকপাত করে রাঘবেন্দ্র মিশ্র জানান যে, কচু একটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল যা সাধারণত রোপণের প্রায় ৬ থেকে ৭ মাসের মধ্যে পুরোপুরি পেকে বা কাটার উপযোগী হয়ে ওঠে। বর্তমান বাজারে সাধারণ ফসলের তুলনায় জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত খাঁটি কচুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং সাধারণ চাষের তুলনায় এর বাজারদর ও লাভ অনেকটাই বেশি। এই উদ্যমী যুবক আরও জানান যে, ফসলের সুষম বৃদ্ধি এবং কাঙ্ক্ষিত ফলন নিশ্চিত করার জন্য জমিতে নিয়মিত সঠিক পরিচর্যা এবং সময়মতো জল বা সেচ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। জমিতে সময়মতো আগাছা পরিষ্কার করা এবং সঠিক অনুপাতে জৈব সার ছিটানোর ফলে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি দারুণভাবে ত্বরান্বিত হয় এবং যেকোনো ধরনের ছত্রাক বা রোগের ঝুঁকি অনেকাংশেই কমে যায়।

নিজের চাষের পরিধি ও ব্যয়ের হিসাব দিয়ে রাঘবেন্দ্র মিশ্র জানান যে তিনি বর্তমানে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে প্রায় আধ বিঘা জমিতে এই কচু চাষ করে চলেছেন। চাষ শুরুর প্রাথমিক অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে তিনি জানান যে, আজ থেকে চার বছর আগে যখন তিনি এই কাজ শুরু করেছিলেন, তখন তাঁর প্রাথমিক খরচ হয়েছিল মাত্র তিন থেকে চারশো টাকা। বাড়ির নিজস্ব পদ্ধতিতে বীজ শোধন করে তা জমিতে বপন করা হয় এবং সামান্য কোদাল দিয়ে মাটি আলগা করা ও আগাছা পরিষ্কার করার মাধ্যমেই পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হয়। ফলন সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি জানান যে, এই পরিমিত জমিতে প্রায় ৮ থেকে ৯ কুইন্টাল পর্যন্ত উৎকৃষ্ট মানের কচু উৎপাদিত হয়। পাইকারি ও খুচরা বাজারে এই জৈব কচু অনায়াসেই প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়। কচু চাষের এই ব্যবসা থেকে তিনি বর্তমানে যথেষ্ট সন্তোষজনক আর্থিক লাভ করছেন এবং অদূর ভবিষ্যতে এই লাভজনক কৃষিকাজকে আরও বড় পরিসরে প্রসারিত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন।