৭ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির কড়া নির্দেশ! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রায় এবার কী করবে হাইকোর্ট?

চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে করা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে বড়সড় নির্দেশিকা জারি করা হলো। সোমবার দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দিয়েছে যে, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রার আবেদন সংক্রান্ত মামলাটি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শুনানি করতে হবে কলকাতা হাইকোর্টকে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মহানার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানিকালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে উপস্থিত প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন আদালতের কাছে আর্জি জানান যে, হাইকোর্টের পূর্বের নির্দেশ সামান্য সংশোধন করে তাঁর মক্কেলকে অবিলম্বে চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশ ভ্রমণের আইনি অনুমতি দেওয়া হোক। অন্যদিকে, কেন্দ্রের পক্ষে উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা জানান যে, বিষয়টি যেহেতু ইতিমধ্যে কলকাতা হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে, তাই উচ্চ আদালতকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই মামলার শুনানি শেষ করার নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে। সব পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে যে, চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতির আবেদনটি যেহেতু হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত এর জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়নি, তাই হাইকোর্ট যেন দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করে।

উল্লেখ্য, শীর্ষ আদালতে করা এই বিশেষ আবেদনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মূলত কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের গত ২০ জুলাইয়ের একটি নির্দিষ্ট নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। এর আগে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় তাঁর একটি কথিত ভীতিপ্রদর্শনমূলক মন্তব্যের জেরে দায়ের হওয়া একটি ফৌজদারি মামলার প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা ৬ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছিল। সেদিন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, অভিষেককে অবশ্যই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি হয়ে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে এবং আদালতের লিখিত অনুমতি ছাড়া তিনি দেশ ছেড়ে বাইরে যেতে পারবেন না।

পাশাপাশি, বিচারপতি ভট্টাচার্যের বেঞ্চ এও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল যে, অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা প্রদানের শর্তাবলী পরিবর্তনের জন্য তৃণমূল নেতার করা অতিরিক্ত আবেদনটির পরবর্তী শুনানি অগস্ট মাসে হবে, তবে সে সময় কোনো নির্দিষ্ট দিন ধার্য করা হয়নি। উল্লেখ্য, ডায়মন্ড হারবারের এই তরুণ সাংসদ মূলত তাঁর চোখের গুরুতর চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে ওই আবেদনটি করেছিলেন।

তবে মামলার আগের শুনানিতে তদন্ত চলাকালীন আবেদনকারীকে সহজে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের পক্ষ থেকে একরকম অনীহা প্রকাশ করা হয়েছিল। বিচারপতি ভট্টাচার্য পর্যবেক্ষণে বলেছিলেন যে, খোদ কলকাতাতেই একাধিক বিশ্বমানের নামী চোখের হাসপাতাল রয়েছে। এমনকি তাঁর মৌখিক পর্যবেক্ষণে এও বলা হয়েছিল যে, তৃণমূল সাংসদের উচিত প্রথমে সরকারি এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধান চিকিৎসকের কাছে যাওয়া এবং তিনিই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবেন যে অভিষেকের চোখের সমস্যার আধুনিক চিকিৎসা কলকাতায় আদৌ সম্ভব কি না। এখন সুপ্রিম কোর্টের এই নতুন এক সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার নির্দেশের পর কলকাতা হাইকোর্ট এই জটিল আইনি জট কাটিয়ে কী রায় দেয় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার ছাড়পত্র পান কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।