মৃত্যুর মুখ থেকে অলৌকিকভাবে ফেরা! অমিতাভ বচ্চনের জীবনের সেই কালো অধ্যায় কেন আজ সবচেয়ে বড় রহস্য?

বলিউডের শাহেনশা অমিতাভ বচ্চনের জীবনে ‘২ অগস্ট’ কেবল একটি সাধারণ তারিখ নয়, এটি তাঁর দ্বিতীয় জন্মদিবস। ৪৪ বছর আগে ১৯৮२ সালের এই দিনটিতেই ‘কুলি’ সিনেমার মারপিট দৃশ্যের শুটিং করতে গিয়ে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলেন অমিতাভ। অভিনেতা পুনীত ইসারের সঙ্গে অ্যাকশন দৃশ্য করতে গিয়ে টেবিলের কোণায় তাঁর পেট সজোরে ধাক্কা খায়, যার ফলে তাঁর প্লীহা ফেটে গিয়ে অভ্যন্তরীণ মারাত্মক রক্তক্ষরণ শুরু হয়। দ্রুত তাঁকে মুম্বইয়ের নামী ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে অস্ত্রোপচারের পর তিনি দীর্ঘ সময় কোমায় চলে যান এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন।

পরিস্থিতি এতটাই সংকটজনক হয়ে পড়েছিল যে চিকিৎসকরা তাঁকে একপর্যায়ে চিকিৎসাগতভাবে মৃত বা ‘ক্লিনিক্যালি ডেড’ বলে ঘোষণা করেছিলেন। তবে তৎকালীন প্রধান চিকিৎসক ডঃ ফার্দুন উডওয়াদিয়ার অদম্য প্রচেষ্টায় অমিতাভের হৃদয়ে সরাসরি শক্তিশালী অ্যাড্রেনালিন ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়। অলৌকিকভাবে কয়েক মিনিট পর তাঁর হৃদস্পন্দন ফিরে আসে এবং ২ অগস্ট তিনি প্রথম তাঁর হাত-পা নাড়াতে সক্ষম হন। তাঁকে বাঁচিয়ে তুলতে দেশজুড়ে অনুরাগীরা রক্ত দেওয়ার জন্য লাইন দেন। প্রায় ২০০ জন রক্তদাতার থেকে সংগৃহীত ৬০ বোতল রক্ত তাঁর শরীরে দেওয়া হয়।

কিন্তু ১৯৮২ সালে রক্তের উন্নত স্ক্রিনিং প্রযুক্তি না থাকায়, সেই রক্তদাতাদের একজনের শরীরে থাকা হেপাটাইটিস বি ভাইরাস অসাবধানতাবশত অমিতাভের শরীরে প্রবেশ করে। এই মারাত্মক সংক্রমণই পরবর্তী সময়ে তাঁর লিভারের দীর্ঘস্থায়ী রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ২০০০ সালের দিকে রুটিন চেকআপে ধরা পড়ে যে তাঁর লিভারের প্রায় ৭৫ শতাংশ অংশই অকেজো হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে তিনি মাত্র ২৫ শতাংশ লিভার নিয়ে জীবন কাটাচ্ছেন। সম্প্রতি ৮৩ বছর বয়সে পা দিয়েও নিজের ব্লগে সেই পুরনো স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি ভক্তদের ভালোবাসার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং কেবিসি-র রেকর্ডিংয়ে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।