মেঝের এক কোণে চিনির দানা পড়তেই হাজির হয় পিঁপড়ের দল! কীভাবে নিখুঁত ঠিকানায় পৌঁছে যায় তারা?

চা বানানোর সময় চিনির দানা পড়ে যাওয়া কিংবা পায়েস তৈরিতে দুধ উথলে পড়ার ঘটনা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের চেনা ছবি। মিষ্টির গুঁড়ো টেবিলের নিচে পড়লেও আমরা খুব একটা মাথা ঘামাই না। কিন্তু এর ঠিক কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘরের স্যাঁতসেঁতে কোণা বা দরজার প্রান্ত থেকে বেরিয়ে আসে পিঁপড়ের সারি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তারা একেবারে সঠিক জায়গায় পৌঁছে যায় যেখানে মিষ্টি পড়ে থাকে। কিন্তু কীভাবে তারা এত নিখুঁতভাবে মাপঝোপ করে অকুস্থলে উপস্থিত হয়?

বিজ্ঞানীদের মতে, পিঁপড়েরা তাদের বিশেষ অ্যান্টেনা বা শুঁড় ব্যবহার করে বাড়ির মেঝে অনুভব করতে পারে। এর মাধ্যমে তারা এমন সব সূক্ষ্ম ঘ্রাণ ও রাসায়নিক সংকেত শনাক্ত করে যা মানুষের পক্ষে অনুভব করা অসম্ভব। প্রাচীনকাল থেকেই খাবার খোঁজার জন্য পিঁপড়েদের এক সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে, যা রাসায়নিক সংকেত, স্মৃতি এবং সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ব্যবহার করে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্কের মতো কাজ করে।

ভারতের পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটির গবেষক হিমেন্দর ভারতী ২০১৬ সালে চীন ও জাপানের গবেষকদের সঙ্গে যৌথভাবে ভারতে পাওয়া পিঁপড়ের প্রজাতির তালিকা সংকলন করেছিলেন। সেই তালিকা অনুযায়ী, ভারতে পিঁপড়ের প্রায় ৮২৮টি প্রজাতি ও উপপ্রজাতি রয়েছে। ২০২৪ সালে তামিলনাড়ুর তিরুভাল্লুর জেলায় পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে মানুষের ঘরবসতিতে প্রায় ৩৪ প্রজাতির পিঁপড়ের যাতায়াত রয়েছে। তবে আমাদের রান্নাঘরে যে পিঁপড়েগুলো সাধারণত দেখা যায়, তারা কোনো নির্দিষ্ট একটি প্রজাতির নয়।

গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন যে সমস্ত প্রজাতির পিঁপড়ের জীবনযাত্রার ধরণ প্রায় একই রকম। খাদ্যের সন্ধানে তাদের বিভিন্ন ধাপ পার হতে হয়। কিছু পিঁপড়ে ঘরের দেয়াল, ফাটল, জানালা, পাইপ এবং মেঝের কোণা ঘেঁষে চলাচল করে। এদের মূল দায়িত্ব হলো চারপাশের পুরো এলাকা তদারকি করা। এক্ষেত্রে তাদের শরীরের অ্যান্টেনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মাইক্রোবায়োলজির জগতে পিঁপড়েদের এক ভিন্ন মাত্রার জীব হিসেবে বর্ণনা করা হয়। গবেষক শন কে ম্যাকেঞ্জির নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে যে পিঁপড়ের জিনোমে গন্ধ-সংবেদনশীল জিনের প্রাচুর্য রয়েছে। ২০১২ সালে ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের প্রকাশিত এক রিপোর্টেও উল্লেখ করা হয়েছিল যে অন্যান্য বহু প্রজাতির পোকা-মাকড়ের তুলনায় পিঁপড়েদের শরীরে চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি ঘ্রাণশক্তি রিসেপ্টর থাকে, যা তাদের এই অবিশ্বাস্য ক্ষমতা জুগিয়েছে।