প্রথমবার ঘরে বসেই করা যাবে সেন্সাস! ১৬তম আদমশুমারিতে গোপনীয়তার পূর্ণ গ্যারান্টি দিয়ে বিশেষ বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিজিটাল জনগণনা বা সেন্সাস প্রক্রিয়ার সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার সেচ দফতরে স্ব-গণনা প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নিয়ে রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, এবারের সেন্সাস সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং আধুনিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে, যার মূল বৈশিষ্ট্য হলো ডিজিটাল মাধ্যম এবং নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত স্ব-গণনা। গোটা রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন যে, প্রত্যেকে যেন এই স্ব-গণনা প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এই প্রক্রিয়ায় সংগৃহীত সমস্ত তথ্য সম্পূর্ণভাবে গোপনীয় এবং আইনগতভাবে সুরক্ষিত থাকবে বলে তিনি জোরালো আশ্বাস দেন।

নতুন এই ডিজিটাল পদ্ধতির বিশেষ দিক তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে বলেন যে, ব্যক্তিগত তথ্য অপব্যবহার করার বিন্দুমাত্র সুযোগ এখানে নেই। ১৬তম আদমশুমারির এইবারের মূল ট্যাগ লাইন নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জনগণের জনকল্যাণ’। দেশের সমস্ত সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই বিকশিত ভারতের মূল লক্ষ্য সফলভাবে অর্জিত হোক, এমনটাই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি। ২০২৭ সালের ভারতের আসন্ন জনগণনা উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই স্ব-গণনা কর্মসূচিতে এদিন সেচ ভবনের বাংলোতে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী নিজে অংশ নেন। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিকেরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, একাধিক আন্তর্জাতিক দেশের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত থাকার কারণে বর্তমান নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের মতো সংবেদনশীল রাজ্যের জন্য এই জনগণনা প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। আজ থেকেই জেলার অলিগলি থেকে শুরু করে শহরজুড়ে এই স্ব-গণনার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেছে।

প্রথাগত খাতা-কলমের জমানা পেছনে ফেলে এই প্রথম দেশজুড়ে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনা সম্পন্ন হতে চলেছে। নতুন এই স্ব-গণনা পদ্ধতির মাধ্যমে নাগরিকরা সরকারি পোর্টালের সাহায্যে নিজেদের প্রয়োজনীয় তথ্য নিজেরাই অনলাইনে জমা দিতে পারবেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত নাগরিকরা পোর্টালে নিজেদের তথ্য নিজেরাই ঘরে বসে সফলভাবে নথিভুক্ত করতে পারবেন। এর জন্য নির্দিষ্ট পোর্টালে প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে এই ডিজিটাল শুমারি কার্যক্রমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতা করার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সঠিক তথ্য সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়।