সাতসকালে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! বরানগরে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ হারাল দুই স্কুলছাত্র

সাতসকালের ব্যস্ত সময়ে এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় কেঁপে উঠল উত্তর ২৪ পরগনার বরানগর এলাকা। সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে একটি দ্রুতগামী ট্রাকের নির্মম ধাক্কায় করুণ মৃত্যু হয়েছে দুই স্কুল পড়ুয়ার। মর্মান্তিক এই ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে এই দুর্ঘটনার জেরে কলকাতার অন্যতম প্রধান যাতায়াতের পথ বিটি রোডের একটি বড় অংশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ পথচারী ও নিত্যযাত্রীরা।

স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, প্রতিদিনের মতো এদিন সকালেও ওই দুই স্কুলছাত্র বাড়ি থেকে নির্দিষ্ট সময়ে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, বরানগর সংলগ্ন বিটি রোডের ওপর দিয়ে হেঁটে বা সাইকেলে যাওয়ার সময় পিছন দিক থেকে অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসা একটি ভারী লরি বা ট্রাক তাদের সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কার অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে দুই পড়ুয়াই রাস্তার ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। আকস্মিক এই ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ স্তব্ধ হয়ে যায় এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়েই তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় বরানগর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। মর্মান্তিক এই ঘটনার জেরে ব্যস্ততম বিটি রোডের ট্র্যাফিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সড়কের একটি বড় অংশে দীর্ঘক্ষণ গাড়ি আটকে থাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ পরে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালায়।

এদিকে, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটানোর পর ঘাতক ট্রাকটি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও পুলিশের তৎপরতায় চালককে দ্রুত পাকড়াও করা হয়েছে। পুলিশ ঘাতক ট্রাকটিকেও আটক করেছে এবং চালককে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিল কি না কিংবা অতিরিক্ত গতির কারণে এই বিপত্তি—তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। শহরের রাস্তায় প্রতিনিয়ত বেড়েই চলা ভারী যানের বেপরোয়া গতি এবং স্কুল পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের একবার প্রশ্নচিহ্ন উঠে এসেছে এই ঘটনার পর।