রাজস্ব আদায়ে এবার একলাফে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির টার্গেট! মাটিগাড়ার হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে ফাঁস কড়া নির্দেশিকা

রাজ্যে ধারাবাহিক উন্নয়নমূলক কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত রাখতে এবং সরকারি কোষাগার আরও মজবুত করতে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধিকেই এখন প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে রাজ্য অর্থ দফতর। সম্প্রতি মাটিগাড়ায় বাণিজ্য কর দফতরের উত্তরবঙ্গীয় আধিকারিকদের সঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রাজ্যের অর্থ ও পরিবহণ দফতরের প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন এক স্পষ্ট ও জোরালো বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন যে, বর্তমান প্রশাসনিক জমানায় কাটমানি কিংবা সিন্ডিকেটের মতো সমস্ত ধরনের অনৈতিক লেনদেন বা দুর্নীতি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হয়েছে। তাই সরকারি পরিকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির কাজ সচল রাখতে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো ছাড়া সরকারের সামনে আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই।

উত্তরবঙ্গের মোট সাতটি জেলার জিএসটি (GST) আধিকারিকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই পর্যালোচনা বৈঠকে গত অর্থবর্ষের রাজস্ব আদায়ের বিস্তারিত খতিয়ান ও পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। বিগত অর্থবর্ষে উত্তরবঙ্গ অঞ্চল থেকে সরকারের ঘরে মোট ২৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব জমা হয়েছিল। মন্ত্রী এই প্রাথমিক সংগ্রহ দেখে অসন্তোষ প্রকাশ না করলেও, প্রশাসনিক কাজের গতি আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কড়া আর্জি জানান। আলোচনার একপর্যায়ে কর আধিকারিকরা মন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে জানান যে, বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে নজরদারি আরও জোরদার করে তারা রাজস্ব সংগ্রহ অন্তত ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে বদ্ধপরিকর। তবে অর্থ প্রতিমন্ত্রী সেই লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আরও উচ্চাশা প্রকাশ করেন এবং তা বাড়িয়ে প্রায় ৫০ শতাংশের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার জন্য আধিকারিকদের অনুরোধ জানান। বৈঠকে কর ফাঁকি রোধে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ এবং আধিকারিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বৈঠক চলাকালীন আধিকারিকরা মন্ত্রীর গোচরে আনেন যে, কর ফাঁকিবাজদের রুখতে প্রায়শই বিভিন্ন বড় গুদাম, বাণিজ্যিক দফতর এবং সন্দেহজনক আস্তানায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে নজরদারি ব্যবস্থা সচল রাখা হচ্ছে। তবে এই কাজ চালাতে গিয়ে তাদের দপ্তরে তীব্র কর্মী সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে তারা মন্ত্রীর কাছে নতুন কর্মী নিয়োগের জোরালো আবেদন জানান। মন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে এই সমস্যাটি শোনেন এবং সমস্ত অসুবিধা লিখিত আকারে দপ্তরে পেশ করার নির্দেশ দিয়ে জানান যে, সরকার এই বিষয়ে দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

দাপ্তরিক আলোচনার পাশাপাশি কিছুটা হালকা চালে হলেও দফতরের অভ্যন্তরীণ যেকোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিতে একটুও পিছপা হননি প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বিভাগে সম্পূর্ণ দুর্নীতি বন্ধ করে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনলেই রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।” বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান যে, সরকার সফলভাবে পরিচালনা করার পাশাপাশি রাজ্যের প্রতিটি মানুষের জন্য বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প সঠিকভাবে রূপায়ণ করতে প্রচুর আর্থিক সংস্থানের প্রয়োজন হয়। অতীতে কাটমানি ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য থাকলেও বর্তমান দুর্নীতির মুক্ত পরিবেশে উত্তরবঙ্গের দক্ষ আধিকারিকরা সম্পূর্ণ নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সরকারের কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করবেন বলে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী।