অল্প বয়সেই চুলে পাক ধরেছে? ম্যাজিকের মতো পাকা চুল কালো করতে আজই পাতে রাখুন এই ৫ খাবার!

বর্তমান যুগে কমবয়সিদের মধ্যেও মাথার চুল পেকে যাওয়ার সমস্যা অত্যন্ত মহামারীর রূপ ধারণ করেছে। পঁচিশ বা ত্রিশ পেরোতে না পেরোতেই চুলে রুপোলি রেখা দেখা দেওয়া বর্তমান প্রজন্মের কাছে এক উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেনেটিক্স বা বংশগত কারণ ছাড়াও অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, জাঙ্ক ফুড খাওয়া এবং শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব এর প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। কৃত্রিম রাসায়নিকযুক্ত হেয়ার ডাই বা কালার ব্যবহার করে সাময়িকভাবে চুল কালো করা গেলেও তা দীর্ঘস্থায়ী সমাধান দেয় না। চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং পুষ্টিবিজ্ঞান অনুযায়ী, মাথার চুল প্রাকৃতিকভাবে কালো ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখতে গেলে শরীরের ভেতর থেকে পুষ্টির জোগান দেওয়া সবচেয়ে বেশি জরুরি।

চুলের গোড়ায় মেলানিন নামক পিগমেন্টের উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে মূলত চুল পাকতে শুরু করে। এই ঘাটতি পূরণ করতে এবং অকালে চুল পাকার হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কিছু বিশেষ খাবার অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা। প্রথমত, পাতে রাখতে হবে আমলকি বা ইন্ডিয়ান গুজবেরি, যা ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। এটি মেলানিন উৎপাদন বাড়িয়ে চুলকে ভেতর থেকে কালো করতে সাহায্য করে। দ্বিতীয়ত, সামুদ্রিক মাছ, ডিম এবং বাদামে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও প্রোটিন থাকে, যা ফলিকলগুলোকে শক্তিশালী করে। তৃতীয়ত, পালং শাক ও ব্রোকোলির মতো সবুজ শাকসবজি এবং আয়রন সমৃদ্ধ খাবার রক্তাল্পতা দূর করে চুলের গোড়ায় পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করে।

চতুর্থত, ডার্ক চকলেট এবং কোকোবিপ্রোডাক্টে কপার বা তামা নামক খনিজ উপাদান থাকে, যা প্রাকৃতিক পিগমেন্টেশন বজায় রাখতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। পঞ্চমত, তিল বীজ বা সিডসে থাকা ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট চুলের অকাল বার্ধক্য রোধ করে। কৃত্রিম প্রসাধন সামগ্রীর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে যদি সঠিক ডায়েট ও সুষম আহার নিশ্চিত করা যায়, তবে এই সমস্যা থেকে খুব সহজেই স্থায়ী মুক্তি পাওয়া সম্ভব।