রাতে বারবার বাথরুমে ছুটতে হয়? অজান্তেই কোন মারাত্মক রোগের শিকার নন তো!

রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছেন, আর হঠাৎ মাঝরাত্রে প্রস্রাবের চাপে ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো ঘটনা কি আপনার সঙ্গেও প্রায়ই ঘটছে? দিনে এক-আধবার এমন হওয়া স্বাভাবিক হলেও, প্রতি রাতে যদি দু-তিনবার বা তার বেশি বাথরুমে ছুটতে হয়, তবে এখনই সাবধান হওয়া প্রয়োজন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই বিরক্তিকর শারীরিক অবস্থাকে বলা হয় ‘নকচুরিয়া’ (Nocturia)। এটি কেবল একটি সাময়িক অস্বস্তি নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে নানা গুরুতর শারীরিক জটিলতা।
চিকিৎসা বিজ্ঞান ও বিভিন্ন গবেষণায় এই সমস্যার বেশ কিছু বড় কারণ উঠে এসেছে। বিশ্বখ্যাত চিকিৎসা গবেষণা সংস্থা ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ’ (NIH)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, আমাদের শরীরে থাকা ‘অ্যান্টিডিউরেটিক হরমোন’ সাধারণত রাতে প্রস্রাব তৈরির পরিমাণ কমিয়ে রাখে। কিন্তু বয়স বাড়লে বা নানা শারীরিক অসুস্থতার কারণে এই হরমোনের মাত্রা কমে যায়, যার ফলে রাতে বারবার প্রস্রাবের বেগ পায়।
পাশাপাশি, ‘আমেরিকান ইউরোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন’ (AUA)-র গবেষণা জানাচ্ছে, নকচুরিয়ার প্রধান দুটি কারণ হতে পারে ডায়াবেটিস এবং প্রোস্টেটের বৃদ্ধি। রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়লে কিডনি অতিরিক্ত চিনি শরীর থেকে বের করতে অনেক বেশি জল ব্যবহার করে, যার জেরে রাতে বারবার বাথরুমে যেতে হয়। অন্যদিকে, বয়স্ক পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট গ্রন্থি আকারে বড় হয়ে গেলে তা মূত্রনালিতে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে, ফলে ব্লাডার বা মূত্রথলি পুরোপুরি খালি হতে পারে না। এছাড়া ‘স্লিপ ফাউন্ডেশন’-এর তথ্য অনুযায়ী, যাঁদের রাতে নাক ডাকার সমস্যা বা স্লিপ অ্যাপিনিয়ার মতো ঘুমের রোগ রয়েছে, তাঁদের শরীরে এক বিশেষ কেমিক্যাল তৈরি হয় যা কিডনিকে রাতে অতিরিক্ত জল শরীর থেকে বের করে দেওয়ার ভুল বার্তা পাঠায়।
চিকিৎসকদের মতে, সবসময় বড় কোনো রোগ না থাকলেও আমাদের কিছু ভুল অভ্যাসের কারণেও এই কষ্ট হতে পারে। যেমন—রাতে ঘুমোতে যাওয়ার ঠিক আগে অনেকটা জল পান করা, সন্ধ্যা বা রাতে অতিরিক্ত চা, কফি বা কোল্ড ড্রিঙ্কস খাওয়া, খাবারে অতিরিক্ত নুন খাওয়া কিংবা সারাদিন অলসভাবে শুয়ে-বসে কাটানো।
এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সন্ধ্যার পর চা-কফির অভ্যাস কমান এবং রাতে শোয়ার আগে মাত্রাতিরিক্ত জল খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। তবে সমস্যাটি যদি প্রায় প্রতিদিনই হতে থাকে, তবে তা একেবারেই অবহেলা করবেন না। দ্রুত একটি সাধারণ ব্লাড সুগার পরীক্ষা বা ইউরিন টেস্ট করালেই এর মূল কারণ ধরা পড়ে যায়। সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে খুব সহজেই এই ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।