এসি ও নন-এসি তৎকাল বুকিংয়ে বড়সড় ধাক্কা! রেলের এই কড়া নির্দেশিকা না মানলে কাউন্টার থেকেই ফিরতে হবে খালি হাতে

আগামী ১ অগাস্ট থেকে ভারতীয় রেলের তৎকাল টিকিট বুকিং ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী ও অত্যন্ত কড়া পরিবর্তন আনতে চলেছে প্রশাসন। রেলওয়ে সূত্রে প্রাপ্ত বিশেষ তথ্যে জানা গিয়েছে যে, দেশের যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে এবং টিকিট বুকিং প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ওয়েস্ট সেন্ট্রাল রেলওয়ে তাদের সমস্ত রিজার্ভেশন কাউন্টার থেকে তৎকাল টিকিট বুকিংয়ের গোটা নিয়মে বড়সড় রদবদল ঘটিয়েছে। মূলত টিকিট কালোবাজারি ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য চিরতরে কমানো এবং প্রকৃত ও সাধারণ যাত্রীদের হাতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে টিকিট তুলে দেওয়ার লক্ষ্যেই রেলের এই কঠোর ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এই বন্দোবস্ত অনুযায়ী, এখন থেকে কাউন্টার ভিত্তিক তৎকাল টিকিট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়মের বদলে সম্পূর্ণ নতুন ‘টোকেন ভিত্তিক সিস্টেম’ (Token System) চালু করা হচ্ছে, যা যাত্রীদের টিকিম পাওয়ার অভিজ্ঞতাকে সম্পূর্ণ বদলে দেবে।

নতুন এই নিয়মের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—এখন থেকে রিজার্ভেশন কাউন্টারে গিয়ে হুট করে লাইনে দাঁড়িয়ে তৎকাল টিকিট কাটতে পারবেন না যাত্রীরা। নতুন নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে—টিকিট কাটতে গেলে সবার প্রথমে কাউন্টার থেকে একটি নির্দিষ্ট টোকেন বাধ্যতামূলকভাবে সংগ্রহ করতে হবে। এই টোকেন সংগ্রহ করা ছাড়া কোনোভাবেই তৎকাল টিকিট বুক করার সুযোগ দেওয়া হবে না। রেল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি কাউন্টার থেকে এসি (AC) শ্রেণির টিকিটের জন্য সর্বোচ্চ ১০টি এবং নন-এসি বা স্লিপার শ্রেণির টিকিটের জন্য সর্বোচ্চ ১৫টি করে টোকেন বিতরণ করা হবে। তবে সংশ্লিষ্ট স্টেশন বা কাউন্টারের স্থানীয় ভিড় ও চাহিদার কথা মাথায় রেখে এই নির্দিষ্ট টোকেনের সংখ্যা সামান্য বাড়াতে বা কমাতেও পারে রেল কর্তৃপক্ষ।

শুধু নিয়ম বদল নয়, এর পাশাপাশি টোকেন বিতরণের সুনির্দিষ্ট সময়সূচিতেও বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, এসি টিকিটের জন্য টোকেন সংগ্রহের সময় সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে বাড়িয়ে ৯টা পর্যন্ত করা হয়েছে (যা আগে ছিল সকাল ৯টা থেকে ৯টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত)। অন্যদিকে, নন-এসি বা স্লিপার শ্রেণির টিকিটের জন্য সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত টোকেন দেওয়া হবে (যা পূর্বে নির্ধারিত ছিল সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে ৯টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত)। রেলের এই কড়া নির্দেশিকায় আরও স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, যারা একান্তই নিজের জন্য কিংবা পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে সরাসরি ভ্রমণের উদ্দেশ্যে তৎকাল টিকিট বুক করবেন, তাদের টোকেন দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর জন্য যাত্রীকে অবশ্যই সঙ্গে রাখতে হবে কোনো একটি আসল ও বৈধ ফটো পরিচয়পত্র। এমনকি পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের জন্য টিকিট বুক করতে গেলে সম্পর্কের উপযুক্ত প্রমাণপত্রও কাউন্টারে দেখাতে হবে।

যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে রেলের তরফ থেকে একাধিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। রেল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, কাউন্টার থেকে সংগৃহীত এই টোকেন ভুলেও অন্য কাউকে হস্তান্তর বা শেয়ার করা যাবে না। যে নির্দিষ্ট ব্যক্তির নামে টোকেন ইস্যু করা হবে, চূড়ান্ত টিকিটটিও শুধুমাত্র তাঁর নামেই বুক করা হবে। পাশাপাশি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিজার্ভেশন কেন্দ্রে পৌঁছানো এবং সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঙ্গে রাখার জন্য যাত্রীদের বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে বুকিংয়ের সময় কোনো রকম অপ্রীতিকর বা ঝামেলার পরিস্থিতি তৈরি না হয়।

এদিকে রেলের তরফ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, টোকেন ব্যবস্থার নিয়মে পরিবর্তন আনা হলেও মূল তৎকাল টিকিট বুকিংয়ের আসল সময়ে কোনো ধরনের বদল করা হয়নি। অর্থাৎ, এসি কোচ বুকিংয়ের জন্য আগের মতো যথারীতি সকাল ১০টা এবং নন-এসি বা স্লিপার কোচে তৎকাল বুকিংয়ের জন্য সকাল ১১টাতেই নির্ধারিত প্রক্রিয়া শুরু হবে। উল্লেখ্য, এই দুই ক্ষেত্রেই যাত্রার নির্ধারিত দিনের ঠিক একদিন আগে থেকে বুকিং উইন্ডো খোলা হয়। রেল প্রশাসনের জোরালো দাবি, নতুন এই অভিনব টোকেন ব্যবস্থা সফলভাবে চালু হলে কাউন্টারগুলিতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইনের জট কমবে, দালালদের বেআইনি দৌরাত্ম্য পুরোপুরি রোখা সম্ভব হবে এবং সার্বিকভাবে তৎকাল টিকিট বুকিংয়ের গোটা প্রক্রিয়াটি আরও অনেক বেশি স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব হয়ে উঠবে।