স্পেনে রেকর্ড অভিবাসী অনুপ্রবেশ! মরক্কো সীমান্ত পেরিয়ে ইউরোপ ঢোকার লড়াইয়ে সলিল সমাধি ৯ জনের

স্পেনের উত্তর আফ্রিকার অধীনস্থ সেউটা অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে এক নজিরবিহীন ও মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে গোটা বিশ্ব। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মরক্কো থেকে সমুদ্র পেরিয়ে স্পেনের ওই সংবেদনশীল অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে রেকর্ড সংখ্যক অভিবাসী অনুপ্রবেশ ঘটেছে। বিপজ্জনক সমুদ্রপথ পার হয়ে স্পেনের মাটিতে পা রাখার এই মরিয়া প্রচেষ্টায় ইতিমধ্যেই মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে অন্তত নয়জন অভিবাসীর। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা এএফপি-র সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে, সমুদ্রের জলে তলিয়ে যাওয়া ওই ৯ জন অভিবাসীর মৃতদেহ ইতিমধ্যেই উদ্ধার করেছে স্পেন কর্তৃপক্ষ। গত কয়েক দিনের ভয়াবহ পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ১,৫০০-র বেশি অভিবাসী সমুদ্রের বুকে চরম ঝুঁকি নিয়ে স্পেনের এই ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছেন। এমনকি মরক্কোর সীমান্তবর্তী ফ্লিদেক শহরেও সীমান্ত পার হওয়ার আশায় অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন আরও শতাধিক মানুষ।

এই লাগাতার ও ব্যাপক অনুপ্রবেশের জেরে বর্তমানে স্পেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তীব্র সঙ্কট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি কঠোরহস্তে নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে মাদ্রিদের পক্ষ থেকে বিপুল সংখ্যক সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে যে, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী বা নিয়মিত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া সিভিল গার্ডের সংখ্যা দ্বিগুণ করা, অভিজ্ঞ ডুবুরি দল নামানো এবং কোস্টগার্ডের উন্নত জলযান মোতায়েন করার মতো একাধিক জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই নজিরবিহীন সংকট মোকাবিলায় দেশের প্রশাসনিক প্রধান অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

সামাজিক মাধ্যম এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ একটি বিশেষ বার্তা দিয়ে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে লিখেছেন, “বর্তমান এই গভীর সঙ্কট মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে সমস্ত প্রয়োজনীয় ও কঠোর পদক্ষেপ করা হচ্ছে। মরক্কো প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিলিত ভাবে যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করে তোলার ঐকান্তিক চেষ্টা চলছে।” প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নির্দেশ মেনে উদ্ভূত পরিস্থিতি সরেজমিন খতিয়ে দেখতে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাসকা খোদ সেউটা অঞ্চল সফরে গিয়েছেন।

এদিকে, সেউটার এই মারাত্মক অভিবাসী সংকটকে কেন্দ্র করে সমগ্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্দরেও তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। খোদ ইতালির বিদেশমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি প্রকাশ্যে স্পেনের বর্তমান অভিবাসন নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। ইতালীয় মন্ত্রীর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মাদ্রিদ অবিলম্বে ইতালীয় দূতকে তলব করেছে। স্পেনের বিদেশমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে অভিযোগ করেছেন যে, রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্যই এই সংবেদনশীল বিষয়টিকে বিরোধীরা ব্যবহার করছে। অন্যদিকে, স্পেনের স্থানীয় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতিকে সরাসরি ‘জাতীয় নিরাপত্তা সঙ্কট’ বলে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সরকারের উপর চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। উল্লেখ্য, স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউটা এবং মেলিল্লা অঞ্চল আফ্রিকার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থলসীমান্ত হওয়ায় এটি বরাবরই অভিবাসন ইস্যুতে অত্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।