প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্ক থেকে গভীর রাতের ভিডিয়ো বার্তা! মোদি-শাহ জুটিকে নিশানা করে বিস্ফোরক পোস্ট লোকসভার বিরোধী নেতার

দেশজুড়ে তীব্র ছাত্র আন্দোলন, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কেন্দ্রের নতুন কঠোর আইন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরপর গভীর রাতের ধারাবাহিক ভিডিয়ো বার্তার আবহে রাজনৈতিক পারদ এখন চড়রম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ঠিক এই সংবেদনশীল পরিস্থিতিতেই দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রের শাসকদলকে সরাসরি আক্রমণ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর করা একটি অত্যন্ত কড়া ও বিস্ফোরক পোস্টকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে রাহুলের এই সমস্ত গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার কিংবা বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সামাজিক মাধ্যম এক্স (তৎকালীন টুইটার)-এ নিজের অফিশিয়াল হ্যান্ডেলে করা একটি পোস্টে রাহুল গান্ধি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় লেখেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, Gen Z বা দেশের নতুন প্রজন্মকে ভয় দেখিয়ে কোনোভাবেই চুপ করানো যাবে না। প্রথমে তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছেন, মারধর করেছেন। আর এখন তাদের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করা হচ্ছে এবং সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্টগুলি সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আপনারা হলেন দেশের অতীত। কিন্তু মনে রাখবেন, ভারতের এই তরুণ ভবিষ্যতের সঙ্গে আপনারা কীভাবে আচরণ করছেন, সে বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকুন।” রাহুলের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা ও বিতর্কের ঝড় উঠেছে।
এদিকে, রাহুলের এই বিস্ফোরক পোস্টের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই দেশের ছাত্রসমাজকে সরাসরি বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন যে, দেশের কোনো পড়ুয়ার আগামী বা ভবিষ্যৎ নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত ‘মাফিয়া’দের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গত বৃহস্পতিবার রাত প্রায় এগারোটার সময় ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি বিশেষ ভিডিয়ো বার্তায় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো জঘন্য অপরাধের সঙ্গে যুক্ত কোনো চক্রকে সরকার একবিন্দুও ছাড়বে না। বিগত কয়েক দিনের ব্যবধানে এটি ছিল প্রধানমন্ত্রীর তৃতীয় কোনো গভীর রাতের ভিডিয়ো বার্তা, যার মূল কেন্দ্রবিন্দুতেই ছিল দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থা এবং পড়ুয়াদের সুরক্ষীত ভবিষ্যৎ।
ওই ভিডিয়ো বার্তায় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দেশের লক্ষ লক্ষ মেধাবী ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা অতীতে ছিনিমিনি খেলেছে, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ও কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাঁর জোরালো দাবি, শুধুমাত্র অপরাধীদের শাস্তি প্রদান করলেই সামগ্রিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান হওয়া সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন শিক্ষা এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল ও কাঠামোগত সংস্কার। সেই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বর্তমান কেন্দ্র সরকার সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর, স্বচ্ছ এবং জালিয়াতিমুক্ত পরীক্ষার পরিকাঠামো গড়ে তোলার পথে দ্রুত এগিয়ে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ সংক্রান্ত অতি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিলটি ইতিমধ্যেই সংসদের উভয় কক্ষ তথা লোকসভা ও রাজ্যসভায় সফলভাবে পাশ হয়ে গিয়েছে।
তবে সরকারের এই কঠোর অবস্থানের বিপরীতে দাঁড়িয়ে ছাত্র আন্দোলন এবং প্রশাসনের বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে কেন্দ্রকে তীব্র কাঠগড়ায় তুলেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। চলতি সপ্তাহের বুধবার সংসদের ভেতরে প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত নতুন বিল নিয়ে আলোচনার সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় নিশানা করেছিলেন রাহুল গান্ধি। তাঁর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল, সাধারণ ছাত্রদের এই ন্যায়সংগত বিক্ষোভ ও আন্দোলন নির্মমভাবে দমন করার উদ্দেশ্যে ছররা বন্দুক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফ থেকেই। একই সঙ্গে কটাক্ষের সুরে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদের অন্দরে এসে বসলেন না? তিনি দাবি করেন, তিরিশটি গাড়ির বিশাল কনভয় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে প্রবেশ করলেও অধিবেশন কক্ষে আসেননি কারণ তিনি ভয় পেয়েছিলেন। সংসদের সেই প্রতিবাদের সুরকেই আরও এক ধাপ বাড়িয়ে এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি মোদি ও শাহকে একযোগে নিশানা করলেন রাহুল গান্ধি।