‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পথেই হাঁটতে হল!’ মিড ডে মিলে ডিম রাখতেই শুভেন্দুকে তুলোধনা বিরোধী শিবিরের

মিড ডে মিলের মেনুতে ‘ডিম’ রাখা নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনার অবসান ঘটাল রাজ্য সরকার। সরকারি স্কুলগুলিতে ইসকন নিরামিষ খাবার সরবরাহ করবে বলে আগেই ঘোষণা করা হলেও, বুধবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন যে মিড ডে মিলের থালায় আস্থা ফিরিয়ে আনছে সরকার। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে ছাত্রছাত্রীদের পাতে পড়বে সেদ্ধ ডিমও।
কী ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী?
বুধবার এক প্রেস বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, আগামী ১ অগাস্ট থেকে সরকারি স্কুলগুলিতে মিড ডে মিলের রান্না করা খাবার দেওয়ার যে দায়িত্ব ইসকনকে দেওয়া হয়েছে, তারা তাদের সাত্ত্বিকতা বজায় রেখেই খাবার সরবরাহ করবে। ওড়িশা সহ দেশের বহু রাজ্যে এই মডেলেই খাবার দেওয়া হয়।
তবে এর সঙ্গেই সরকারের পক্ষ থেকে নতুন সংযোজন হিসেবে জানানো হয়, “সপ্তাহে এক বা দু’দিন পড়ুয়াদের দেওয়া হবে সেদ্ধ ডিমও। এই ব্যবস্থাটি পরিচালিত হবে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে। আলাদা করে সেদ্ধ ডিম বাচ্চাদের বিতরণ করা হবে।”
রাজনৈতিক তরজা ও বিরোধী প্রতিক্রিয়া
ডিম বাদ দেওয়া এবং পরবর্তীতে তা ফিরিয়ে আনার এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সুর চড়িয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। তাঁদের দাবি, পুষ্টিগুণ বা প্রোটিনের উৎস জেনেশুনেই এতদিন ডিম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল সরকার। কিন্তু তীব্র জনরোষ এবং বিরোধিতার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বদল করতে বাধ্য হয়েছে পদ্মশিবির।
তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “মমতাদি নিজে ডিম তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন। সেই ডিম ফিরিয়েই আনা হল। এই সরকার তথা শুভেন্দু অধিকারীকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখানো রাস্তাতেই চলতে হবে। এছাড়া কোনও পথ খোলা নেই। শুভেন্দুর বিলম্বিত বোধোদয় হয়েছে।”
পিছিয়ে নেই বামেরাও। এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে জনমতের জয় বলে উল্লেখ করে বলেন, “ডিমের পুষ্টিগুণের কথা সবার জানা। যখন শুভেন্দুবাবু বলেছিলেন ডিম তুলে দেওয়া হচ্ছে, তখন অন্ধভক্তরা খুব সমর্থন জানিয়েছিলেন। এখন তাঁদেরই আবার ঢোঁক গিলে বলতে হবে সোয়াবিনের থেকে ডিম কেন ভালো!”
সব মিলিয়ে, মিড ডে মিলে ডিমের প্রত্যাবর্তন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর এখন তুঙ্গে।