ক্ষমতার অহংকার দূর! নিজে হাতে সাধুদের সেবা করে তাক লাগিয়ে দিলেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী

গুরু পূর্ণিমার পবিত্র ও শুভ উপলক্ষে ভক্তি, বিশ্বাস এবং মানবসেবার এক অপূর্ব ও হৃদয়স্পর্শী চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে। রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মার স্ত্রী গীতা শর্মার একটি ভিডিও বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের বেগে ভাইরাল হয়েছে এবং তাঁর অতুলনীয় সেবাপরায়ণতার জন্য সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসা কুড়াচ্ছে। বহুল প্রচারিত এই ভাইরাল ভিডিওটিতে গীতা শর্মাকে অত্যন্ত সশ্রদ্ধভাবে উপস্থিত সাধু-সন্তদের নিজ হাতে খাবার পরিবেশন করতে এবং পরবর্তীতে তাঁদের ব্যবহৃত থালা নিজের হাতে তুলে নিতে দেখা যায়।
প্রাপ্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ভিডিওটি ব্রজ অঞ্চলে আয়োজিত একটি বিশেষ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। গুরু পূর্ণিমার এই মহোৎসবে সাধু, সন্ত এবং দূরদূরান্ত থেকে আগত ভক্তরা সমবেত হয়েছিলেন। বিশেষ আকর্ষণ ছিল এই যে, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীর পত্নী হওয়া সত্ত্বেও গীতা শর্মা কোনো রাখঢাক না রেখে নিজেই অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে সন্তদের খাবার পরিবেশন করেন। শুধু তাই নয়, তাঁদের খাওয়া শেষ হওয়ার পর বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে তাঁদের ব্যবহৃত থালা নিজে তুলে নেন এবং পরিষ্কার করার ব্যবস্থাও করেন। তাঁর এই বিনয়ী ও সৌজন্যমূলক আচরণ অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত সকল মানুষের মন জয় করে নেয়।
ভারতীয় সনাতন সংস্কৃতিতে গুরু ও সাধু-সন্তদের সেবাকেই জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম বলে গণ্য করা হয়। পদ, ক্ষমতা ও রাজনৈতিক প্রতিপত্তির ঊর্ধ্বে যে মানবসেবাই আসল পরিচয়, তা এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো। ভিডিওটিতে গীতা শর্মা যে অপার ভক্তি ও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে এই সেবা সম্পন্ন করেছেন, তা আমাদের প্রাচীন সংস্কৃতির ‘সেবাই পরম ধর্ম’—এই শাশ্বত বাণীকে যেন রূপালি পর্দায় জীবন্ত করে তুলেছে। আজকের দিনে যেখানে অনেকেই জাঁকজমক ও লোকদেখানো আড়ম্বরকে বেশি প্রাধান্য দেন, সেখানে তাঁর এই সারল্য সমাজে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।
বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ভিডিওটি ব্যাপকভাবে শেয়ার হচ্ছে এবং নেটিজেনরা অন্তহীন প্রতিক্রিয়ায় ভরিয়ে দিচ্ছেন। সাধারণ মানুষ এটিকে সনাতন ধর্মের মহান ঐতিহ্য, নম্রতা এবং অকৃত্রিম মূল্যবোধের এক অনন্য নিদর্শন বলে অভিহিত করছেন। এক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন যে, রাজ্যের একজন মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর এই অত্যন্ত সাধারণ ও মাটির কাছাকাছি আচরণ গোটা সমাজের জন্য একটি উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা। বর্তমানে এই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমের প্রতিটি কোণায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।