ব্যাংকক থেকে দিল্লি বিমানবন্দরে নামতেই কেলেঙ্কারি! সুকেসের ভেতর থেকে উদ্ধার ৯ কেজি হাই-এন্ড মাদক!

নয়াদিল্লি, ৩০ জুলাই। জাতীয় রাজধানী দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক (আইজিআই) বিমানবন্দরে বড়সড় মাদক চোরাচালানের পর্দাফাঁস করল কাস্টমস বিভাগ। ব্যাংকক থেকে আসা এক বিমানযাত্রীকে এনডিপিএস (NDPS) আইনের আওতায় গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্তের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় নয় কিলোগ্রাম সন্দেহজনক হাইড্রোফোনিক উইড বা উচ্চমানের মাদকদ্রব্য। বৃহস্পতিবার শুল্ক বিভাগের পক্ষ থেকে এক সরকারি বিবৃতিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। হাইড্রোফোনিক উইড মূলত গাঁজার একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও আধুনিক প্রজাতি, যা প্রথাগতভাবে মাটিতে চাষ করার পরিবর্তে বিশেষ পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ জলে কৃত্রিম উপায়ে উৎপাদন করা হয়। এই বিশেষ জাতের গাঁজায় নেশার রাসায়নিক উপাদান বা টিএইচসি (THC)-র মাত্রা সাধারণ গাঁজার তুলনায় বহুগুণ বেশি থাকে, যার কারণে আন্তর্জাতিক কালো বাজারে এর চহিদা ও দাম আকাশছোঁয়া।
কাস্টমস সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ওই যাত্রী গত বুধবার ব্যাংকক থেকে বিমানে চেপে সরাসরি দিল্লির আইজিআই বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। আধুনিক প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন সিস্টেম বা এপিআইএস (APIS) প্রোফাইলিংয়ের নিখুঁত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কাস্টমস কর্মকর্তারা ওই যাত্রীকে চিহ্নিত করেন। তিনি অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে গ্রিন চ্যানেল পেরিয়ে বিমানবন্দরের বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই তাকে থামানো হয় এবং তল্লাশির জন্য আটক করা হয়।
শুল্ক বিভাগের প্রকাশিত বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে যে, প্রাথমিক আটকের পর ওই যাত্রীর সঙ্গে থাকা সমস্ত সুকেস ও ব্যাগেজ এক্স-রে মেশিনের মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হয়। এক্স-রে স্ক্যানের সময়ই স্ক্যানার স্ক্রিনে কাস্টমস কর্মকর্তাদের চোখে পড়ে কিছু সন্দেহজনক বস্তু এবং অস্পষ্ট ছবি। এরপর যাত্রীর উপস্থিতিতে তার মালপত্র খুলে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে গভীর তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশি চালানোর সময়ই ব্যাগের ভেতর থেকে সিল করা পাঁচটি এয়ারটাইট বা বায়ুরোধী প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। ওই প্যাকেটগুলো খুলতেই তার ভেতর থেকে একটি বিশেষ সবুজ রঙের উদ্ভিজ্জ পদার্থ উদ্ধার করা হয়, যা দেখে অভিজ্ঞ কাস্টমস কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয় যে এটি অত্যন্ত উচ্চমানের দামি অবৈধ গাঁজা বা হাইড্রোফোনিক উইড। বাজেটপ্ত করা মাদকের মোট ওজন প্রায় ৯ কিলোগ্রাম বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের সঙ্গে এই যাত্রী সরাসরি যুক্ত রয়েছে কি না এবং এই বিপুল পরিমাণ মাদক কার কাছে সরবরাহ করার পরিকল্পনা ছিল, তা খতিয়ে দেখতে বর্তমানে ওই যাত্রীকে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শুল্ক আইনের কঠোর ধারায় মামলা রুজু করে পুরো চক্রের মূল পাণ্ডাদের খুঁজছে তদন্তকারী দল।