রাজ্য শিক্ষায় বিরাট ধাক্কা! বিলুপ্ত হল মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন, শিক্ষক নিয়োগে এবার একচ্ছত্র আধিপত্য এসএসসির

রাজ্য শিক্ষা ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক এবং বড়সড় রদবদল ঘলাল সরকার। প্রশাসনিক স্তরে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে একতা ও সমতা আনার লক্ষ্য নিয়ে রাজ্যে চিরতরে বিলুপ্ত করা হল ‘মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন’। এখন থেকে রাজ্যের সমস্ত স্বীকৃত মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের সম্পূর্ণ দায়িত্ব একচ্ছত্রভাবে সামলাবে স্কুল সার্ভিস কমিশন বা এসএসসি। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে প্রশাসন জানিয়েছে যে, এবার থেকে মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগের জন্য আর কোনো পৃথক পরীক্ষা বা আলাদা পর্ষদের মুখোমুখি হতে হবে না চাকরিপ্রার্থীদের।
এই ব্যবস্থার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০০৮ সালের আগে মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের জন্য কোনো পৃথক কমিশন ছিল না। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার রাজ্যের ৬১৪টি মাদ্রাসাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দেয় এবং ২০০৮ সালে পাশ হয় মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন আইন। সেই থেকেই এই আলাদা পরিকাঠামোর মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলে আসছিল। তবে বর্তমান প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেই পুরোনো আইন বাতিল করে সমস্ত নিয়োগ প্রক্রিয়াকে একটি নির্দিষ্ট একক কাঠামোর (এসএসসি) অধীনে নিয়ে আসা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে একাধিক প্রশাসনিক সুবিধা মিলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথমত, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা কমে গতি আসবে এবং পুরো ব্যবস্থার ওপর কড়া নজরদারি চালানো সম্ভব হবে। চাকরিপ্রার্থীদের আর দুটি আলাদা পর্ষদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে না, ফলে বিভ্রান্তি দূর হবে। পাশাপাশি, আলাদা কমিশনের পরিকাঠামো বা কর্মী পরিপোষণের বাড়তি খরচ বেঁচে যাওয়ায় সরকারি অর্থের অপচয়ও রোধ করা সম্ভব হবে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, বিগত পনেরো বছর ধরে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকাল চললেও স্বীকৃত মাদ্রাসার সংখ্যা সেই ৬১৪টিতেই আটকে রয়েছে। উল্টো দিকে গত কয়েক বছরে রাজ্যে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা অনুমোদনহীন বা ‘খারিজি’ মাদ্রাসা এবং বিভিন্ন বেনিয়মের অভিযোগ ঘিরে নানান প্রশ্ন উঠছিল। সমস্ত নিয়োগ একক কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হলে দুর্নীতি বা স্বজনপোষণের সুযোগ অনেকটাই হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তটিকে আইনগত বৈধতা দিতে রাজ্য সরকারকে খুব শীঘ্রই বিধানসভায় নতুন বিল আনতে হবে। পুরনো মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন আইন বাতিল এবং এসএসসি আইনের উপযুক্ত সংশোধনের মাধ্যমেই এই নয়া নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর হবে।