হলিউডের গ্ল্যামার বনাম ধ্রুপদী ভারতীয় নৃত্য! ব্রিকস থিয়েটার ফেস্টিভ্যালে আসছে ঐতিহাসিক রুশ প্রযোজনা

১২ই অক্টোবর নয়াদিল্লির নাট্য ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য ও ঐতিহাসিক সন্ধ্যা হতে চলেছে। ব্রিকস থিয়েটার ফেস্টিভ্যালের অংশ হিসেবে, রাশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ থিয়েটার আর্টস (জিআইটিআইএস)-এর বিশিষ্ট শিল্পীরা নয়াদিল্লির প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত খ্যাতনামা কামানি অডিটোরিয়ামে মঞ্চস্থ করতে চলেছেন ইমরে কালমানের বিখ্যাত অপেরা ‘লা বায়াদেয়ার’। আগামী ১২ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে সন্ধ্যা ৬:০০টা থেকে রাত ৮:৩০টা পর্যন্ত রুশ ভাষায় এই বিশ্বমানের পরিবেশনাটি অনুষ্ঠিত হবে, যা রাজধানীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।
জনপ্রিয় গল্প ‘লা বায়াদেয়ার’-এর চিরাচরিত উপস্থাপনাকে এক নতুন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে। এবারের নাটকের পটভূমি ১৯৫০-এর দশকের হলিউডে স্থাপন করা হয়েছে। গল্পটি একটি হলিউড ফিল্ম স্টুডিওকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, যেখানে ‘লা বায়াদেয়ার’ নামক একটি সঙ্গীতধর্মী চলচ্চিত্র শুটিং চলছে। চলচ্চিত্রটির পরিচালক এক গভীর উভয়সংকটে পড়েন, কারণ তাঁকে এমন একটি ছবি নির্মাণ করতে হয় যার চিত্রনাট্য তাঁর নিজের পছন্দ নয়। এর ওপরে আবার ছবিটির প্রধান অভিনেত্রী অন্য একটি ফিল্ম স্টুডিওর লোভনীয় প্রস্তাব গ্রহণ করায় এবং ভারতীয় রাজপুত্র রাজামির ভূমিকায় অভিনয় করার মতো উপযুক্ত অভিনেতা খুঁজে না পাওয়ায় স্টুডিওর সামনে বিশাল চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়।
মূলত, ‘লা বায়াদেয়ার’ হলো একটি বিশ্ববিখ্যাত ধ্রুপদী ব্যালে, যা ফরাসি নৃত্য পরিচালক মারিয়াস পেটিপা তৈরি করেছিলেন এবং এর মনোমুগ্ধকর সঙ্গীত রচনা করেছিলেন লুডভিগ মিনকাস। ১৮৭৭ সালে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবারর্গে প্রথম মঞ্চস্থ হওয়া এই নাটকের ফরাসি শব্দ ‘বায়াদের’-এর অর্থ ভারতীয় মন্দিরের নর্তকী বা দেবদাসী। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রাচীন বা কাল্পনিক ভারতের পটভূমিতে রচিত এই নাটকটি প্রেম, ঈর্ষা, প্রতিশোধ এবং বিয়োগান্তকতার এক গভীর অনুভূতি ফুটিয়ে তোলে। দিল্লির এই বিশেষ প্রদর্শনীতে ক্লাসিক্যাল সঙ্গীতের সাথে জ্যাজের আধুনিক উপাদানের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে, যা আজকের দর্শকদের জন্য এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা উপহার দেবে। রাশিয়ার স্বনামধন্য জিআইটিআইএস-এর ছাত্রছাত্রী ও শিল্পীরা এই নাটকে অভিনয় করবেন, যার পরিচালনা করেছেন রাশিয়ার সম্মানিত শিল্পী ঝানা ঝেরডার। রুশ দূতাবাসের শেয়ার করা ইনস্টাগ্রাম পোস্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই নাটকপ্রেমীদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে পৌঁছেছে।