আরব দুনিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র! সংসদ ভবনেই তলব করা হল ক্যাবিনেটের শীর্ষ মন্ত্রীদের

মধ্যপ্রাচ্যের দ্রুত পরিবর্তনশীল উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তার জেরে ভারতের সামগ্রিক জ্বালানি সুরক্ষায় সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রশাসনিক মহলে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এহেন সংকটজনক পরিস্থিতিতে দেশের অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানির অবাধ জোগান সুরক্ষিত রাখতে খোদ সংসদ ভবনেই মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা সংক্রান্ত কমিটির (CCS) এক জরুরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সংসদের চলমান বাদল অধিবেশনের মাঝেই আয়োজিত এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা, কূটনীতি, অর্থনৈতিক পরিকাঠামো এবং জ্বালানি দফতরের শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সরকারের প্রথম সারির কেবিনেট মন্ত্রী এবং প্রশাসনিক ও নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত শীর্ষ আধিকারিকেরা অংশ নিয়েছেন। আমন্ত্রিতদের তালিকায় রয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভাল।

এছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল, কিরেণ রিজিজু, জে পি নাড্ডা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল-সহ স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও জ্বালানি বিষয়ক বিভিন্ন দফতরের উচ্চপদস্থ আমলারা।

সরকারি সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, আরব দুনিয়ার চলমান অশান্ত পরিবেশ ভারতের অপরিশোধিত তেল (Crude Oil), বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম সামগ্রী, এলপিজি (LPG) এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) আমদানিতে ঠিক কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এই বৈঠকে।

আঞ্চলিক সংঘাত আরও বৃদ্ধি পেলে বা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে যাতে কোনও অবস্থাতেই দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি সরবরাহে টান না পড়ে, তার জন্য ভারতের আপৎকালীন প্রস্তুতি এবং জরুরি বিকল্প ব্যবস্থা (Contingency Measures) কতটা মজবুত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী নিজে।

উল্লেখ্য, ভারতের প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের সিংহভাগই আমদানি করা হয় আরব বিশ্বের দেশগুলি থেকে। ফলে ওই অঞ্চলে সামান্যতম অস্থিরতা তৈরি হলেও তা সরাসরি ভারতের অর্থনীতি, বৈদেশিক বাণিজ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদরে বড় ধরনের প্রভাব ফেলার আশঙ্কা থাকে। দেশের শীর্ষ কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক ও জ্বালানি নেতৃত্বের এই যৌথ উপস্থিতি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, নয়াদিল্লি গোটা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর কতটা কড়া নজর রাখছে। বৈঠক শেষ হওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে একটি বিশেষ বিবৃতি প্রকাশ করা হতে পারে বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে।