শুভেন্দুর নজির টেনেও মেলেনি সম্পূর্ণ স্বস্তি! অভিষেকের আইনি সুরক্ষার মেয়াদ বাড়াল হাইকোর্ট

শুভেন্দু অধিকারীর মামলার আইনি নজির টেনেও শেষরক্ষা হলো না। আদালতের বিচারে সম্পূর্ণ স্বস্তি মিলল না তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তবে আপাতত কিছুটা স্বস্তি পেয়ে আগামী ৬ অগাস্ট পর্যন্ত সীমিত রক্ষাকবচ পেলেন তিনি। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, যে তিনটি মামলায় শুনানি এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে, সেই মামলাগুলিতে আপাতত অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনওরকম কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না।
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ জানিয়েছে, ভবানীপুর (২৭ মে ২০২৬), কালীতলা (১৬ জুন ২০২৬) এবং বিষ্ণুপুর (১৬ জুন ২০২৬)—এই তিনটি এফআইআর-এর ক্ষেত্রে আগামী ৬ অগাস্ট পর্যন্ত কোনও কড়া পদক্ষেপ করবে না পুলিশ। তবে বাকি পাঁচটি এফআইআর-এর ক্ষেত্রে এখনই আদালত কোনওরূপ হস্তক্ষেপ করতে নারাজ। একই সঙ্গে অভিষেকের বিরুদ্ধে বর্তমানে ঠিক কতগুলি এফআইআর ঝুলছে, তার একটি বিশদ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তালিকা পুলিশকে আদালতে জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মামলার আইনি রায়কে সামনে রেখে সম্পূর্ণ রক্ষাকবচের দাবি জানিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীরা। ২০২১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর শুভেন্দু অধিকারীর মামলায় হাইকোর্ট যে রক্ষাকবচের নির্দেশ দিয়েছিল, মূলত সেই রায়কেই আইনি রেফারেন্স হিসেবে টেনেছিলেন তাঁরা। কিন্তু বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সেই যুক্তির সম্পূর্ণ পরিধি গ্রহণ না করে শুধুমাত্র আগামী ৬ অগাস্ট মামলার পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত একটি সীমিত আইনি কবচ প্রদান করেছেন।
শুনানি চলাকালীন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী গোপাল শংকরনারায়ণ জোরালো সওয়াল করে জানান যে, বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের ঠিক পরপরই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একাধিক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। দীর্ঘ ৮ বছর পর এই ধরনের এফআইআর করার নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা রয়েছে এবং আদালত যেন এই মামলাগুলি খারিজ করে দেয়। তিনি ২০২১ সালে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ১৭টি এফআইআর মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্টের দেওয়া সুরক্ষার প্রসঙ্গটি পুনরায় স্মরণ করান।
অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী এস ভি রাজু এবং অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য সওয়াল করেন যে, বিগত সেই আদালতের নির্দেশ বর্তমান মামলার ক্ষেত্রে আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়, কারণ পূর্বের মামলার প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন যে, এই মুহূর্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করার প্রয়োজনীয়তা ঠিক কোথায় রয়েছে? গ্রেফতার না করে কি এই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়?
অন্যদিকে, সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান যে, একটি সাধারণ এক লাইনের এফআইআর-এর ওপর ভিত্তি করেও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হতে পারে এবং আইন সেটাই নির্দেশ করে। গভীরতা কতটা, তা কেবল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হতে পারে। সমস্ত পক্ষের বক্তব্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে শোনার পর আদালত আগামী ৬ অগাস্ট পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সীমিত রক্ষাকবচ বহাল রাখার নির্দেশ দেয়।