তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে মাঝআকাশে বিপত্তি! অবতরণের অনুমতি না পেয়ে প্রায় কুড়ি মিনিট চক্কর কাটল ইন্ডিগোর বিমান

খারাপ আবহাওয়ার কারণে শেষ মুহূর্তে অবতরণের অনুমতি মেলেনি। যার জেরে তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেবন্ত রেড্ডিকে নিয়ে আকাশে দীর্ঘক্ষণ চক্কর কাটল যাত্রীবাহী বিমান। বুধবার রাতে দিল্লি থেকে হায়দরাবাদগামী ইন্ডিগোর একটি বিমানে এমনই রোমহর্ষক ও নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রতিকূল আবহাওয়ার জেরে বিমানবন্দর থেকে ল্যান্ডিংয়ের গ্রিন সিগন্যাল না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ‘গো-অ্যারাউন্ড’ অর্থাৎ অবতরণ না করে পুনরায় আকাশে চক্কর কাটতে বাধ্য হন পাইলট।
জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি এবং অন্যান্য যাত্রী সহ মোট ২২৯ জন ব্যক্তিকে বহনকারী ইন্ডিগোর ফ্লাইটটি (6E717) যখন হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (সামসাবাদ বিমানবন্দর) অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তেই আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে পাইলট ল্যান্ডিং প্রক্রিয়া বাতিল করতে বাধ্য হন। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, রানওয়েতে অবতরণের আনুষ্ঠানিক অনুমতি পাওয়ার আগে বিমানটি আকাশে প্রায় ২০ মিনিট ধরে চক্কর কাটে এবং শেষ পর্যন্ত রাত ৮টা ৩৫ মিনিটের দিকে বিমানটি সমস্ত যাত্রীদের নিয়ে সম্পূর্ণ নিরাপদে অবতরণ করে। এই আকস্মিক পরিস্থিতিতে বিমানে থাকা যাত্রীদের মধ্যে সাময়িক উদ্বেগ ছKSড়ালেও শেষ পর্যন্ত কেউ আহত হননি।
সরকারি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে, বুধবার দিল্লির কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ‘ইন্দিরা ভবন’-এ আয়োজিত রাজ্য দলীয় সমন্বয় কমিটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি রাজ্যের একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয়ে আলোচনা করেন এবং সন্ধ্যায় হায়দরাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। দিল্লি থেকে ফেরার পথেই হায়দরাবাদে পৌঁছনো বিমানটি সামসাবাদ বিমানবন্দরে নামার ঠিক আগমুহূর্তে আবহাওয়ার কোপানলে পড়ে এবং প্রায় ২০ মিনিটের নাটকীয় পরিস্থিতির পর অবশেষে নিরাপدي মাটিতে নেমে আসে।
দিল্লি সফরকালে মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি দেশের কেন্দ্রীয় কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন। সেই বৈঠকে তিনি গ্রামীণ আবাসন প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের প্রায় ১১.৫৬ লক্ষ যোগ্য সুবিধাভোগীর নতুন বাড়ি অনুমোদনের জোরালো দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি মনরেগা বা কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্পের বকেয়া তহবিল অবিলম্বে ছাড় করার অনুরোধ করেন। পাশাপাশি এল নিনোর নেতিবাচক প্রভাব, খরা পরিস্থিতি এবং তেলেঙ্গানায় বিগত দিনে ফসল উৎপাদনের ঘাটতি খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায় কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল পাঠানোর জন্য আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী।
পরে নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী রেড্ডি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান যে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তাঁদের সমস্ত প্রস্তাবের বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন এবং খুব শীঘ্রই একটি কেন্দ্রীয় দল তেলেঙ্গানা পরিদর্শন করতে আসবে বলে তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন। এ ছাড়াও রাজ্যের ‘হাইড্রা’ (HYDRA) অভিযান অর্থাৎ অবৈধ জবরদখল উচ্ছেদের যে বিশেষ কর্মসূচি রাজ্যে চলছে, তার সম্পূর্ণ পক্ষ নিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে এই অভিযান আগামী দিনেও অবিরাম চলবে এবং আদালতের নির্দিষ্ট নির্দেশ মেনেই পরবর্তী সমস্ত পদক্ষেপ করা হবে। পাশাপাশি তিনি আশ্বস্ত করেন যে, রাজ্যে ছাত্রছাত্রীদের ফি প্রতিপূরণ (fee reimbursement) সংক্রান্ত আর কোনও জটিলতা বা সমস্যা থাকবে না।
দিল্লি ছাড়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী কংগ্রেসের দলীয় বৈঠকে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি দেশের অন্যতম উদীয়মান মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘স্কাইরুট অ্যারোস্পেস’-এর প্রতিষ্ঠাতাদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতের সময় তিনি তাঁদের স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, রাজ্যে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি-ভিত্তিক শিল্পের দ্রুত বিকাশে তেলেঙ্গানা সরকার সর্বদা সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করতে প্রস্তুত রয়েছে।