চলন্ত অবস্থায় মিলবে ঘরের সব আরাম! তাক লাগাতে বাজারে এল নতুন টয়োটা হাইল্যাক্স ক্যাম্পার

টয়োটা ইন্ডিয়া তাদের জনপ্রিয় এবং শক্তিশালী লাইফস্টাইল পিকআপ ট্রাক টয়োটা হাইল্যাক্সের একটি নতুন ও আকর্ষণীয় মডেল বাজারে নিয়ে এসেছে। এই অসাধারণ মডেলটির বেস ভ্যারিয়েন্ট GX 4X2-এর জন্য একটি বিশেষ ‘ক্যাম্পার বিল্ড’ অপশন যুক্ত করা হয়েছে। এই নতুন উদ্ভাবনটি মূলত সেইসব ভ্রমণপিপাসী, অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী এবং ওভারল্যান্ডিং উৎসাহীদের কথা মাথায় রেখে বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যারা নিজেদের গাড়িতেই বসবাস করার মতো আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও ভ্রমণের রোমাঞ্চ একসঙ্গে উপভোগ করতে চান। কোম্পানির পক্ষ থেকে এই দুর্দান্ত গাড়িটির এক্স-শোরুম মূল্য ৩২ লক্ষ টাকা ধার্য করা হয়েছে।

বেস GX 4X2 প্ল্যাটফর্মের উপর ভিত্তি করে তৈরি এই মডেলটি গ্রাহকদের জন্য একটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং দুর্দান্ত বিকল্প হিসেবে প্রমাণিত হবে, যারা এটিকে নিজেদের পছন্দমতো একটি সম্পূর্ণ ভ্রাম্যমাণ বাড়িতে পরিণত করতে ইচ্ছুক। গাড়িটির পেছনের কার্গো ডেকে প্রয়োজনীয় ক্যাম্পার মডিউলগুলো যেমন আরামদায়ক বিছানা, মিনি কিচেন, পর্যাপ্ত স্টোরেজ এবং তাঁবু খুব সহজেই সেট আপ করা সম্ভব। দীর্ঘ দূরত্বের রোড ট্রিপ, পাহাড়ি ক্যাম্পিং এবং ভ্রমণের জন্য এটি একটি পরিপূর্ণ প্যাকেজ প্রদান করে।

গাড়িটির ডিজাইন এবং ইন্টেরিয়রের কথা বলতে গেলে, নতুন টয়োটা হাইল্যাক্সের সামনের অংশটি অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও সুউচ্চ গড়নের। এতে রয়েছে স্বনামধন্য ‘TOYOTA’ ব্র্যান্ডিং সম্বলিত একটি আকর্ষণীয় হানিকম্ব গ্রিল, মসৃণ এলইডি হেডল্যাম্প এবং একটি নতুন মজবুত ফ্রন্ট বাম্পার। এর ক্যাম্পার সংস্করণে পেছনের কার্গো বেডের উপর একটি সুদৃঢ় ও আবহাওয়া-প্রতিরোধী শেল বা রুফটপ টেন্ট স্থাপনের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি গাড়িটিতে রয়েছে শক্তিশালী বডি ক্ল্যাডিং, সাইড স্টেপ এবং নজরকাড়া অ্যালয় হুইল। প্রধান কেবিনটিতে প্রিমিয়াম অল-ব্ল্যাক থিম সহ একটি আরামদায়ক ডুয়াল-ক্যাব লেআউট দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পার-নির্মিত এই সংস্করণের আসল আকর্ষণ হলো এর পেছনের ডেক এলাকা, যা নিমেষেই একটি থাকার জায়গায় রূপান্তরিত করা যায়। এতে রয়েছে স্লাইড-আউট বেড ও ম্যাট্রেস, জরুরি জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখার জায়গা, একটি মিনি-কিচেন সেটআপ এবং জল সংরক্ষণের উন্নত ব্যবস্থা, যা দীর্ঘ সফরের সময় এটিকে একেবারে বাড়ির মতো উষ্ণ অনুভূতি দেয়।

সুরক্ষা ও আধুনিক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকেও গাড়িটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। সামনের কেবিনে রয়েছে একটি বিশাল ১২.৩-ইঞ্চি টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম, যাতে ওয়্যারলেস অ্যান্ড্রয়েড অটো এবং অ্যাপল কারপ্লে যুক্ত রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার, অটোমেটিক ক্লাইমেট কন্ট্রোল এবং সুবিধাজনক ওয়্যারলেস ফোন চার্জার। ক্যাম্পার এরিয়ার ভেতরে আলাদাভাবে ১২-ভোল্ট পাওয়ার সকেট, এলইডি রিডিং ও অ্যাম্বিয়েন্ট লাইট এবং একাধিক অ্যাকসেসরি পোর্ট দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য গাড়িটিতে রয়েছে সাতটি এয়ারব্যাগ, ভেহিকল স্ট্যাবিলিটি কন্ট্রোল (VSC), হিল-স্টার্ট অ্যাসিস্ট, EBD সহ ABS, ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা এবং নিখুঁত পার্কিং সেন্সর। এর মজবুত বডি-অন-ফ্রেম চ্যাসিস যেকোনো কঠিন ভূখণ্ডেও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।

পারফরম্যান্সের কথা বলতে গেলে, গাড়িটিতে একটি নির্ভরযোগ্য ও শক্তিশালী ২.৮-লিটার টার্বো-ডিজেল ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা থেকে সর্বোচ্চ ২০৪ পিএস শক্তি এবং ৫০০ এনএম টর্ক উৎপন্ন হয়। এর সঙ্গে একটি মসৃণ ৬-স্পিড অটোমেটিক ট্রান্সমিশন যুক্ত রয়েছে। ৪X২ ড্রাইভট্রেন এবং দুর্দান্ত গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্সের সমন্বয়ে এই ইঞ্জিনটি দীর্ঘ দূরত্বের হাইওয়ে ক্রুজিং এবং রোমাঞ্চকর ক্যাম্পিং ট্রিপে অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দেবে।