লুপ্তপ্রায় ফসল বাঁচাতে বিশাল পদক্ষেপ! জাতীয় জিন ব্যাঙ্কে সংরক্ষিত হাজার হাজার প্রাচীন দেশি বীজ!

দেশ তথা ভারতের প্রাচীন, ঐতিহ্যবাহী এবং অনন্য ফসলের জাতগুলি নিখুঁতভাবে সংরক্ষণের পাশাপাশি প্রাচীন কৃষি পদ্ধতি এবং দেশীয় বীজের প্রসারে নিরন্তর ও জোরালো প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্র সরকার। দেশের অন্নদাতাদের অর্থাৎ কৃষকদের নিজস্ব দেশীয় বীজ ব্যবহারে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করা এবং এই সমস্ত কৃষিপণ্যের জন্য সুনির্দিষ্ট ও লাভজনক বাজার সুবিধা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। সম্প্রতি লোকসভায় এক লিখিত জবাবে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী রামনাথ ঠাকুর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেশ করে জানিয়েছেন যে, বহুমূল্য দেশীয় জার্মপ্লাজম, স্থানীয় ফসলের বৈচিত্র্য এবং ঐতিহ্যবাহী জাতগুলি দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত রাখতে একাধিক সুনির্দিষ্ট সরকারি প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই মহৎ উদ্যোগে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ এগ্রিকালচারাল রিসার্চ (ICAR) এবং ন্যাশনাল ব্যুরো অফ প্ল্যান্ট জেনেটিক রিসোর্সেস (NBPGR) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছে। দেশজুড়ে বিভিন্ন দুর্গম অঞ্চল থেকে ঐতিহ্যবাহী বীজ সংগ্রহ করে, সেগুলির ওপর পুঙ্খানুপুঙ্খ বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষার জন্য সংরক্ষিত করা হচ্ছে।

এই সমস্ত প্রাচীন ও দেশীয় বীজগুলির মধ্যে এমন অনেক ঐতিহ্যবাহী জাত লুকিয়ে রয়েছে, যেগুলির জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে লড়াই করার এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও অত্যন্ত চমৎকার ফলন দেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের সংকট মোকাবিলা করতে এবং উন্নত নতুন ফসলের জাত উদ্ভাবন করার ক্ষেত্রে এই দেশীয় বীজগুলি এক একটি মাইলফলক হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে উদ্ভিদ জাত সুরক্ষা ও কৃষক অধিকার (পিপিভিঅ্যান্ডএফআর) কর্তৃপক্ষের কাছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকদের প্রায় ৫,৩৪৬টি ঐতিহ্যবাহী ও স্থানীয় বীজ জাতের সফল রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে কৃষকদের সবথেকে বড় যে সুবিধাটি হয়েছে, তা হলো তাঁরা এখন তাঁদের শতবর্ষ-প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী বীজ জাতগুলির ওপর সম্পূর্ণ আইনি অধিকার লাভ করেছেন। এর মধ্যে নিজস্ব বীজ সংরক্ষণ, ব্যবহার ও বাণিজ্যিক লেনদেনের পূর্ণ অধিকারও সুরক্ষিত রয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের এই সুদূরপ্রসারী উদ্যোগে দিল্লির জাতীয় জিন ব্যাঙ্কে (আইসিএআর-এনবিপিজিআর) ইতিমধ্যেই এক লক্ষেরও বেশি দুর্লভ দেশীয় বীজ এবং স্থানীয় ফসলের জাত অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে সংরক্ষিত করা হয়েছে, যা আগামী দিনে কৃষি বিজ্ঞানীদের নতুন জাতের উচ্চনন ও গবেষণার কাজে সবচেয়ে বড় সহায়ক শক্তি হয়ে উঠবে। শুধু তাই নয়, যে সমস্ত সাধারণ কৃষক এবং স্থানীয় সম্প্রদায় দীর্ঘকাল ধরে এই ঐতিহ্যবাহী কৃষি পদ্ধতি ও বহুমূল্য দেশীয় বীজগুলি পরম যত্নে রক্ষা করে চলেছেন, তাঁদের সম্মানিত ও উৎসাহিত করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মর্যাদাপূর্ণ “জিন গার্ডিয়ান অ্যাওয়ার্ড” প্রকল্পও সফলভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। এই বিশেষ প্রণোদনা ও স্বীকৃতির অধীনে ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পরিবেশ ও কৃষিবান্ধব মানুষের কাজের মূল্যায়ন করে ৪৫টি “কমিউনিটি অ্যাওয়ার্ড”, ৬৯টি “ফার্মার অ্যাওয়ার্ড” এবং ৮৮টি “ফার্মার রিকগনিশন” প্রদান করা হয়েছে। সরকারের এমন বহুমুখী পদক্ষেপে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি যেমন শক্তিশালী হচ্ছে, তেমনই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুরক্ষিত হচ্ছে ভারতের কৃষি ঐতিহ্য।