“দফতর ধরে ধরে অডিট হবে, গরমিল বরদাস্ত নয়!” মিলনমেলা থেকে সব দপ্তরকে কড়া আল্টিমেটাম মুখ্যমন্ত্রীর!

রাজ্য প্রশাসনের কাজে স্বচ্ছতা ও গতি আনতে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। এবার থেকে আর কোনো অভিযোগ জমা পড়ার অপেক্ষায় বসে থাকা নয়, বরং প্রতিটি সরকারি দফতরে নিয়মিত পঞ্জিকা (ক্যালেন্ডার) মেনে চালাতে হবে ইন্টারনাল অডিট। কলকাতার মিলনমেলা চত্বরে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক থেকে অর্থ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির আধিকারিকদের এই কড়া নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
প্রশাসনিক পরিকাঠামো জোরদার করার বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকার কাজের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় আর্থিক ও পরিকাঠামোগত সমস্ত সহায়তা দিতে প্রস্তুত, প্রয়োজনে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদেরও সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে।
📌 বৈঠকের মূল নির্দেশিকা ও সিদ্ধান্তসমূহ:
নিয়মিত অডিট বাধ্যবাধকতা: আগের মতো কেবল অভিযোগ এলে বা পরিস্থিতি সাপেক্ষে অডিট করার প্রথা বন্ধ। এখন থেকে ক্যালেন্ডার ধরে নিয়মিত অভ্যন্তরীণ অডিট সম্পন্ন করতে হবে।
সম্পূর্ণ অডিট, নমুনা সমীক্ষা নয়: কোনো ‘স্যাম্পল সমীক্ষা’ বা নমুনা পরীক্ষা চলবে না। প্রতিটি দফতরের অডিট ধরে ধরে করতে হবে এবং সেই রিপোর্ট সরাসরি পাঠাতে হবে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে (CMO)।
আগের গরমিল বন্ধে পদক্ষেপ: মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে নিয়মিত অডিট না হওয়ার কারণে প্রশাসনিক কাজে বহু গরমিল ও অনিয়ম ঘটেছে। বর্তমান সরকার তার কোনো পুনরাবৃত্তি চাইবে না।
অর্থের অভাব হবে না: রাজ্যের চলমান প্রকল্প ও নতুন পরিকাঠামো গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ রাজ্য সরকার বরাদ্দ করবে। কাজের গতি ও স্বচ্ছতায় যেন কোনো খামতি না থাকে।
“আগের সরকারের আমলে অডিট না হওয়ায় অনেক গরমিল হয়েছে। আমরা তার পুনরাবৃত্তি চাই না।” — নবান্ন সূত্রে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ।
🔍 সংবাদের গুরুত্ব ও প্রশাসনিক প্রভাব:
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, মিলনমেলার এই বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই নির্দেশ রাজ্য সরকারের আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক নজরদারি ব্যবস্থা আরও কঠোর করার একটি বড় প্রয়াস। এর মাধ্যমে যেমন প্রতিটি দপ্তরের জবাবদিহি নিশ্চিত হবে, তেমনই দুর্নীতির পথও অনেকাংশে বন্ধ করা সম্ভব হবে।