আন্দোলন শেষ হতেই নাচানাচি! সিজেপি নেতা সৌরভ দাসের ভাইরাল ভিডিও ঘিরে টলিপাড়ায় ও নেটপাড়ায় চরম বিতর্ক

দিল্লির বুকে ককরোচদের আন্দোলন আপাতত থামলেও তার রেশ ধরে বিতর্ক থামার কোনো লক্ষণ নেই। সাম্প্রতিক এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) জাতীয় মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং তাঁর কয়েকজন সহযোগীর একটি বিতর্কিত নাচের ভিডিও। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ভিডিওটি হু হু করে ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নেটিজেনরা; সর্বত্র শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা এবং উঠেছে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন। যদিও গণমাধ্যম বা সংবাদমাধ্যম সূত্রে ওই ভিডিওটির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি, তবে ভিডিওটিতে ঠিক কী দেখা গিয়েছে? ভাইরাল হওয়া ওই ক্লিপটিতে দেখা যাচ্ছে যে, সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আরও কয়েকজন নেতা-কর্মী কোনো একটি স্থানে নাচের ছন্দে মেতে উল্লাস করছেন। এই ভিডিও সামনে আসার পরেই রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিশিষ্ট ইউটিউবার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেঘনাদ এই বিষয়ে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করে নিজের তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। মেঘনাদ লিখেছেন, “গত দু’দিন ধরে আমি এবং আমার কয়েকজন বন্ধু নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে আন্দোলনে অংশ নিতে আসা ক্ষুধার্থ ও অসহায় মানুষগুলোর বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করেছি। অথচ এদিকে দেখুন, সিজেপি নেতারা বলছেন— ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে’! যখন যন্তর মন্তরে পুলিশ এসে আন্দোলনের প্রকৃত সহযোদ্ধাদের জিনিসপত্র বলপূর্বক তুলে ফেলে দিল, নেতারা তখন সেখান থেকে চটজলদি পালিয়ে গিয়েছেন।” সিজেপিও শেষ পর্যন্ত অন্য আর দশটি গতানুগতিক রাজনৈতিক দলের মতোই চরিত্রহীন হয়ে উঠেছে বলে চরম কটাক্ষ করেছেন তিনি।
Everyone deserves to unwind and celebrate after a hard day’s work. But there is a time and a place for it.
When a movement is presented as a fight for justice for students, including those whose deaths by suicide are invoked as its moral foundation, scenes of dancing and what… pic.twitter.com/vIz35PtYcn
— Amit Malviya (@amitmalviya) July 27, 2026
অন্যদিকে, সৌরভদের এই নাচ ও হুল্লোড়ের ভিডিওটি রি-পোস্ট করে বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ মহেশ জেঠমালানি অত্যন্ত কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে লিখেছেন, “সত্যিই কি এটা সম্ভব? সিজেপি-র নেতৃত্ব একটি হোটেলে বসে বিজয়-উৎসব পালন করছে! দিল্লিতে দিনের পর দিন সহিংসতা ও উত্তেজনা চলার পর, তথাকথিত এই যুব-কর্মীরাই কিনা গান-বাজনা চালিয়ে নাচানাচি শুরু করে দিল।” শুধু তাই নয়, এর চেয়েও অনেক বেশি গুরুতর কিছু প্রশ্ন তুলে মহেশ জেঠমালানি যোগ করেছেন যে, “এই আন্দোলন চলাকালীন যাতায়াত, খাওয়া-দাওয়া, থাকা, সরঞ্জাম এবং অন্যান্য বিশাল ব্যবস্থাপনার খরচ কারা জুগিয়েছে? যে শক্তিগুলো দিল্লিকে ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তপ্ত ও অস্থির করে রেখেছিল, তাদের আসল অর্থায়ন কারা করেছে?” যদিও এই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ সংবাদমাধ্যমে সাফাই দিয়ে জানিয়েছেন যে, তাঁরা কোনো ফাইভ স্টার হোটেলে বসে ফুর্তি করেননি, বরং ১৫০-২০০ জন সাধারণ কর্মীকে সঙ্গে নিয়েই ওই উচ্ছ্বাস পালন করেছিলেন।