তেলাপোকা জনতা পার্টির বিক্ষোভে লাঠিচার্জ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বড় রায়! হিংসাকারীদের ছাড় না দেওয়ার কড়া নির্দেশ!

তেলাপোকা জনতা পার্টির বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ রায় দিয়েছে। শীর্ষ আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, ছাত্র বিক্ষোভের সময় যারা ইচ্ছাকৃতভাবে সহিংসতা অবলম্বন করে এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেয়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একইসঙ্গে, নিট (NEET) পরীক্ষার প্রতিবাদকারী সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বাড়াবাড়ি এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের সমস্ত অভিযোগের একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তেরও আহ্বান জানিয়েছে আদালত। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করেছে যে, যদি প্রশাসনের তরফ থেকে প্রতিষ্ঠিত নিয়ম বা প্রোটোকল লঙ্ঘন করা হয়ে থাকে, তবে তার বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া আবশ্যক। বর্তমান মামলার শুনানির দায়িত্বে রয়েছে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনা সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ বেঞ্চ।

মামলার শুনানিপর্বে প্রধান বিচারপতি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করে বলেন, “আমরা মনে করি না যে এই বিষয়ে দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শোনার কোনো প্রয়োজন রয়েছে। মূলত এটি শিক্ষার্থীদের একটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ছিল, যেখানে তারা তাদের কিছু নির্দিষ্ট ও ন্যায্য দাবি উত্থাপন করেছিলেন এবং এই আন্দোলন সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় সংবিধানের নির্ধারিত সীমার মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছিল।” তিনি আরও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন যে, এই ধরনের যেকোনো শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিবাদে মাঝে মাঝেই কিছু ‘অনাহূত অতিথি’ বা উপদ্রবকারী উপস্থিত হয়। তারা নিজেদের ব্যক্তিগত বা অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ভিড়ের মধ্যে প্রবেশ করে এবং খুব দ্রুত নিজেদের আন্দোলনের সহ-আয়োজক বা নেতা হিসেবে জাহির করতে শুরু করে। অন্যদিকে, মামলার শুনানিতে শিক্ষার্থীরা জোরালো যুক্তি দেখিয়ে বলেছেন যে, দেশে বাকস্বাধীনতা ও প্রতিবাদের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর এই ধরনের নৃশংস ও অমানবিক আচরণ করা হয়েছে।