হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েই বড় বার্তা সোনম ওয়াংচুকের! লাদাখ ফেরার আগে যাবেন সোজা রাজঘাটে

দীর্ঘ টানাপোড়েন এবং জোর করে অনশন ভাঙানোর পর অবশেষে দিল্লির সফদরজং হাসপাতাল থেকে মুক্তি পেলেন বিশিষ্ট পরিবেশবিদ তথা শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিশেষ ভিডিও বার্তা দিয়েছেন তিনি। সেখানে তিনি নিজের শারীরিক পরিস্থিতির কথা জানানোর পাশাপাশি লাদাখে নিজের বাড়ি ফেরার আগের পরিকল্পনা এবং দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

ভিডিওয় কী বললেন সোনম ওয়াংচুক?

ভিডিও বার্তায় সোনম ওয়াংচুক দেশবাসীকে উদ্দেশ করে বলেন, “সবাইকে নমস্কার। আজ সেই দিন, যেদিন হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাচ্ছি। অনেকটা ভাল আছি। খাবার খাচ্ছি। ধীরে ধীরে শরীরে শক্তি পাচ্ছি।” এরপরই নিজের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানিয়ে তিনি বলেন, “আজ এখান থেকে বেরিয়ে লাদাখে বাড়ি ফেরার আগে রাজঘাটে বাপুকে (মহাত্মা গান্ধীকে) শ্রদ্ধা জানাতে যাব। আপনাদের হয়তো মনে আছে, অনশন শুরু করার আগে যখন সুইৎজারল্যান্ড থেকে এসেছিলাম, তখন রাজঘাটে গিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়ে তারপর যন্তর মন্তর গিয়েছিলাম। আজ আবার সেটাই করব। এরপর লাদাখে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেব।”

দেশবাসীর আন্দোলন এবং সমর্থনের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, “যাওয়ার আগে সবাইকে অন্তর থেকে শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনারা সবাই—ছোট-বড়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সকলে আওয়াজ তুলেছেন, একটি আন্দোলন তৈরি হয়েছে, আমরা সফল হয়েছি। সবাই একসঙ্গে জুড়ে থাকবেন এই আশা করি। সকলকে ধন্যবাদ, নমস্কার, জয় হিন্দ।”

আন্দোলনের পটভূমি:

উল্লেখ্য, গত মে মাসে NEET পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং অনিয়মের প্রতিবাদে দেশজুড়ে শুরু হওয়া তুমুল বিক্ষোভ ও ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) আন্দোলনের সমর্থনে গত ২৮ জুন থেকে দিল্লির যন্তর-মদ্বরে অনশনে বসেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। গত ১৮ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনস্থ দিল্লি পুলিশ জোর করে তাঁকে অনশনস্থল থেকে তুলে হাসপাতালে ভর্তি করায়। তাঁর এই জোর করে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

অবশেষে গত শুক্রবার রাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং গুরুগ্রামের হাসপাতালে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করে অনশন ভাঙান এবং গত শনিবারই পদত্যাগ করেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আন্দোলন সফল হওয়ার পর সোনমের এই হাসপাতাল থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল।