দুর্গাপুরে এনআইএ-র মেগা অপারেশন! টায়ার সারাইয়ের আড়ালে ভয়ংকর মানবপাচার চক্রের মাস্টারমাইন্ড কে এই গোলাম?

বৃষ্টিভেজা সোমবারের শান্ত সকাল। ঘড়ির কাঁটায় তখন সবেমাত্র সকাল ৮টা বেজেছে। দুর্গাপুরের ব্যস্ত নিউ স্টিল পার্ক এলাকার বাতাস হঠাৎ করেই থমকে গেল যখন একটি সাদা রঙের গাড়ি এসে থামল। গাড়ি থেকে একে একে নেমে এলেন কয়েকজন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা আধিকারিক। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে বুঝতে না পারলেও পরে যখন জানলেন যে গাড়ি থেকে নামা এই দলটি আসলে দেশের শীর্ষস্থানীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)-এর, তখন থেকেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এক চালা টায়ার সারাইয়ের দোকানের কর্মচারীর বাড়িতে কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই অতর্কিত হানা কেন, তা নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে কৌতূহলী জনতার ভিড় জমতে শুরু করে। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই যখন গোয়েন্দাদের সূত্রে আসল কারণটি প্রকাশ্যে এল, তখন উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের পর্যন্ত চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গেল। জানা গেল, সাধারণ জীবনযাত্রার আড়ালে ভয়ংকর মানবপাচার ও নাশকতামূলক চক্রের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন এই গোলাম জামা।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, এদিন ভোরে এনআইএ-র এক বিশেষ দল দুর্গাপুরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিউ স্টিল পার্ক এলাকায় নিখুঁত পরিকল্পনা করে এই অভিযান চালায়। পুরো বাড়িটি স্থানীয় পুলিশের বিশাল বাহিনীর সাহায্যে সম্পূর্ণ ঘিরে ফেলা হয়। ৬ সদস্যের ওই তদন্তকারী দলে একজন মহিলা আধিকারিকও উপস্থিত ছিলেন। তল্লাশি শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রতিবেশীদের মধ্যে নানা গুঞ্জন শুরু হয়। জানা যায়, গোলাম জামা আদতে ছত্তীসগঢ়ের বাসিন্দা হলেও গত তিন বছর ধরে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে দুর্গাপুরের ওই নিউ স্টিল পার্ক এলাকার একটি ভাড়াবাড়িতে বসবাস করছিলেন। পেশাগতভাবে তিনি অন্ডাল এলাকায় একটি টায়ার সারাইয়ের দোকানে কাজ করতেন এবং নিজেকে অত্যন্ত সাধারণ এক শ্রমিক হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু এই সাধাসিধে জীবনের আড়ালেই তাঁর আসল পরিচয় লুকিয়ে ছিল, যা গোয়েন্দাদের চোখ এড়ায়নি।
তদন্তে নেমে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন যে, গোলামের সঙ্গে সুদূর মধ্যপ্রাচ্য এবং মালয়েশিয়ার মতো বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক চক্রের গভীর যোগাযোগ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বেকার ও সাধারণ যুবকদের ভালো বেতনের কাজের লোভ দেখিয়ে এবং ভিন্রাজ্যে বা বিদেশে পাচার করার মতো একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের সঙ্গে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। এলাকার লোকজনের সঙ্গে তিনি পারতপক্ষে বিশেষ মেলামেশা করতেন না এবং নিজেকে বরাবর গুটিয়ে রাখতেন। কিন্তু তাঁর এই আড়ালে থাকা রহস্যময় জীবনযাত্রা এবং বৈদেশিক যোগাযোগের সূত্র ধরেই গোয়েন্দারা নজর রাখতে শুরু করেছিলেন। আপাতত এনআইএ আধিকারিকরা তাঁর বাড়ি থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং ডিজিটাল ডিভাইস বাজোপ্ত করেছেন। এই মানবপাচার চক্রের সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত রয়েছে এবং দেশজুড়ে এর বড় কোনো নাশকতার যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।